1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

ডেঙ্গুতে এক দিনে তিনজনের মৃত্যু, আক্রান্ত চার শতাধিক

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৫ বার দেখা হয়েছে

 

জাতীয় ডেস্ক

গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ৪২১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দৈনিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। চলতি বছরে এ নিয়ে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০১ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৮ হাজার ৭০৫।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, মৃত্যুবরণ করা তিনজনের মধ্যে দুইজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা। অন্যজন বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত কোনো সিটি করপোরেশনের বাইরে বসবাস করতেন। আক্রান্তদের বণ্টনেও বিভাগভেদে বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবরণীতে দেখা যায়, বরিশাল বিভাগে সিটি করপোরেশনের বাইরে ৬৪ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরে ৭৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৫ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭২ জন নতুন করে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরে ৬৩ জন, খুলনায় ৩০ জন, ময়মনসিংহে ৩১ জন, রাজশাহীতে ১২ জন এবং রংপুরে একজন রোগী শনাক্ত হয়।

তথ্য অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ নারী। একই সময়ে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে মোট ৫২৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ফলে চলতি বছরে মোট ছাড়পত্রপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ৭৬০ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে অধিকাংশেই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকা শীর্ষে রয়েছে এবং এর পরেই অবস্থান বরিশাল বিভাগের।

দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার প্রতি বছরই জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনবসতি, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অনিয়ন্ত্রিত পানি জমা হওয়ার প্রবণতা এডিস মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। চলতি বছরেও একই প্রবণতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। শহরাঞ্চলে আক্রান্তের হার বেশি হলেও বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন জেলায় রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করে আসছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক ডেঙ্গুর বছর। ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। একই বছর ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়, যা এ রোগসংক্রান্ত মৃত্যুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা। গত ২০২৪ সালেও ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল উল্লেখযোগ্য। তখন মোট ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন রোগী ভর্তি হন এবং ৫৭৫ জনের মৃত্যু ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে মৌসুমি প্রস্তুতি ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ জরুরি। নগর অঞ্চলে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নতকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা কার্যকর হতে পারে। এছাড়া, বছরের বিভিন্ন সময় আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সংগতি রেখে সমন্বিত মশকনিধন কর্মসূচি পরিচালনা করার তাগিদও দেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। তাদের মতে, এডিস মশার জীবনচক্র এবং বছরের বিভিন্ন সময়ে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তারতম্যের কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন শুধুমাত্র বর্ষা মৌসুমেই সীমাবদ্ধ নেই। শীতকালেও রোগী শনাক্ত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোগীর সংখ্যা কমাতে দ্রুত শনাক্তকরণ, রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত হাসপাতাল প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীতে রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় হাসপাতালগুলোর ওপর বাড়তি বোঝা সৃষ্টি হয়। ফলে পর্যাপ্ত শয্যা, চিকিৎসাসামগ্রী এবং চিকিৎসক-নার্সের সমন্বিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে, ডেঙ্গুর বিস্তার কমাতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত পরিদর্শন, লার্ভা ধ্বংস এবং মশকবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচার জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নগরবাসীকে ঘরে ও আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি দ্রুত ফেলে দেওয়া, ফুলের টব, ছাদ, বেজমেন্ট ও ফাঁকা পাত্রে পানি যেন না থাকে তা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চলতি বছরের ডেঙ্গু সংক্রমণ এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়, তবে প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অধিকতর সতর্কতা ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে মৃত্যুহার ও আক্রান্তের সংখ্যা কমানো সম্ভব হবে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com