1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা হাদি হত্যাকাণ্ডে ফয়সালের নির্দোষ দাবির ভিডিও, ডিবি বলছে—প্রমাণই শেষ কথা তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণ ‘অপ্রতিরোধ্য’: শি জিনপিং পুলিশের ‘ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ এ নিষিদ্ধ সংগঠনের ২ নেতা গ্রেপ্তার শাহরুখকে ‘গাদ্দার’ আখ্যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত বিশ্বে ২০২৬ সাল উদ্‌যাপন শুরু, প্রথম নতুন বছর বরণ করেছে কিরিবাতি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা বঞ্চিত করে ‘হত্যা” করা হয়েছে : নজরুল ইসলাম খানের দেশনেত্রীর বিদায়: কৃতজ্ঞতা জানালেন তারেক রহমান, জাতীয় ঐক্য ও মানবিকতার বার্তা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুরু

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বছর শেষে আবারও ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস বা মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ১৮৬ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ডলারের হিসাবে প্রায় ৩৩ দশমিক ১৮৭ বিলিয়ন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২ হাজার ৭৯৮ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ (ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল, ষষ্ঠ সংস্করণ) হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৮ হাজার ১১২ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫১৭ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলারে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তে এসে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহে ওঠানামার মতো বহুমাত্রিক চাপ সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ধরে রাখতে এবং তা পুনরুদ্ধারের ধারায় ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু নীতি ও কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণ করে। এসব উদ্যোগের প্রভাবেই বছর শেষে এসে রিজার্ভে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মূলত দুইভাবে হিসাব করা হয়—গ্রস রিজার্ভ এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ। গ্রস রিজার্ভ হলো দেশের কাছে থাকা মোট বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ, যেখানে বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগকৃত অর্থ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত তহবিল, সোনা, এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) এবং আইএমএফে থাকা রিজার্ভ পজিশনসহ সব মিলিয়ে মোট সম্পদের হিসাব অন্তর্ভুক্ত থাকে। অন্যদিকে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে যে রিজার্ভ হিসাব করা হয়, সেটি হলো বৈশ্বিক মানদণ্ডে নির্ধারিত একটি হিসাব পদ্ধতি, যেখানে স্বল্পমেয়াদে দেশের আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং জরুরি বৈদেশিক দেনা পরিশোধে প্রকৃত অর্থে ব্যবহারযোগ্য মুদ্রার হিসাব বেশি গুরুত্ব পায়। এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন অ-তরল (non-liquid) বা সহজে ব্যবহারযোগ্য নয় এমন সম্পদ বাদ দিয়ে রিজার্ভের প্রকৃত অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। ফলে বিপিএম-৬ পদ্ধতির রিজার্ভ সাধারণত গ্রস রিজার্ভের তুলনায় কম হয়, তবে এটি দেশের স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতার আরও বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ৩৩ হাজার ১৮৬ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলার, যা ২৪ ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় ৩৮৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার বেশি। একইসঙ্গে বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৮ হাজার ৫১৭ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা ২৪ ডিসেম্বরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ৪০৫ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, গ্রস রিজার্ভের পাশাপাশি নিট বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভেও প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এটি দেশের জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করছে, বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক দেনা পরিশোধের চাপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ক্রমেই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

রিজার্ভ বৃদ্ধির এই ধারা পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থনীতি বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। প্রথমত, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে ডিসেম্বর মাসে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়, যা বছরজুড়ে চলমান ডলার সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে উৎসবকেন্দ্রিক মৌসুমে প্রবাসীরা দেশে বেশি অর্থ পাঠিয়ে থাকেন, ফলে এই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সাধারণত ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। দ্বিতীয়ত, রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য এবং জাহাজ নির্মাণ খাত থেকে আসা বৈদেশিক মুদ্রা দেশের রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তৃতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংক অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করতে নীতি কঠোর করে, এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেয় এবং বিভিন্ন প্রকল্পে ডলারের ব্যবহার পুনর্মূল্যায়ন করে, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকে। চতুর্থত, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আসা ঋণ ও সহায়তার ডলার-সমর্থিত কিস্তি রিজার্ভে যোগ হওয়ায় মোট মজুদে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়। যদিও বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে এসব ঋণের অর্থ সরাসরি নিট রিজার্ভে যোগ করা হয় না, তবুও গ্রস রিজার্ভে এটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সামগ্রিক রিজার্ভ অবস্থানে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটে।

বাংলাদেশের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল বৈদেশিক দেনা পরিশোধ, জ্বালানি আমদানি ব্যয়, খাদ্যশস্য আমদানির চাপ এবং টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা। ২০২৫ সালের মধ্যভাগে দেশের রিজার্ভ ২০ বিলিয়নের ঘরে নেমে আসার আশঙ্কা তৈরি হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের নীতি-সমন্বিত উদ্যোগের ফলে তা আর সেই পর্যায়ে নামেনি। বিশেষ করে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে প্রণোদনা, বৈদেশিক ঋণ পুনর্গঠন, আমদানি নিয়ন্ত্রণ, এবং ডলার বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশলগত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রিজার্ভ ধরে রাখার প্রয়াস চালানো হয়। এছাড়া আন্তঃব্যাংক ডলার বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ সহজীকরণ, এবং বৈদেশিক মুদ্রা কেনা-বেচায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপগুলো রিজার্ভে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রিজার্ভে এই প্রবৃদ্ধি সাময়িক নয়, বরং এটি একটি পুনরুদ্ধার প্রবণতার অংশ, যা ধরে রাখা গেলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি আরও মজবুত হবে। তবে তারা এটিও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, শুধু গ্রস রিজার্ভ বাড়লেই চলবে না, ব্যবহারযোগ্য বা নিট রিজার্ভের অবস্থানও টেকসই পর্যায়ে রাখতে হবে, যেন দেশের তিন থেকে চার মাসের আমদানি ব্যয় স্বাচ্ছন্দ্যে মেটানো যায়। বর্তমানে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ২৮.৫১ বিলিয়নের ঘরে থাকায় এটি দেশের জন্য ইতিবাচক স্বস্তির বিষয়, তবে বৈশ্বিক ডলার বাজারে অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক দেনার কিস্তি পরিশোধের সময়সূচি বিবেচনায় রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অব্যাহত রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যতেও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, রপ্তানি আয় বাড়াতে সহায়ক নীতি সমন্বয়, রেমিট্যান্স প্রবাহে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের ব্যবহার বৃদ্ধিতে উৎসাহ প্রদান, এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সতর্ক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে চাহিদা-জোগানের ভারসাম্য রক্ষা এবং টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনে বাজারভিত্তিক কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ আস্থা বৃদ্ধি, বৈদেশিক দেনা পরিশোধ সক্ষমতা, এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অর্থ পরিশোধে নিশ্চয়তার বার্তা বহন করে। ২০২৫ সালের শেষে এসে এই ঊর্ধ্বগতি নতুন বছরের শুরুতে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রারম্ভিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের অভিমত, এই ধারাকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক বিনিয়োগ, এবং আমদানি ব্যয়ের নীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় কৌশলগত সতর্কতা অব্যাহত রাখতে হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com