রাজনীতি ডেস্ক
অন্তরবর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম নতুন বছরে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও দায়-দরদের সমাজ গড়ে তোলার কাজে মনোনিবেশ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এই ঘোষণা দেন।
মাহফুজ আলম ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, নতুন বছরকে তিনি সম্পর্ক ও রাজনীতি গড়ে তোলার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “গত বছরের সব ভুল ও তিক্ততা শুধরে এ বছরে নতুন করে সম্পর্ক ও রাজনীতি গড়ে তোলার বছর।” একই পোস্টে তিনি সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একতা ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, সরকারে থাকার সময় জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার জন্য কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও জুলাইয়ের পর সরাসরি ছাত্র-জনতার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাননি। তাই নতুন বছরে তিনি সারা দেশে ছাত্র-জনতার সঙ্গে মিশে তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে চান। মাহফুজ আলম বলেন, “এ বছর সারা বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার সঙ্গে মিশতে চাই। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও দায়-দরদের সমাজ গড়ে তোলার কাজে মনোনিবেশ করতে চাই। আল্লাহ ভরসা।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক নেতারা নতুন বছরের শুরুতে এমন ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করার চেষ্টা করেন। মাহফুজ আলমের পোস্টে যে লক্ষ্যগুলোর কথা বলা হয়েছে, তা মূলত রাজনৈতিক সংহতি ও ছাত্র-জনতার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে। তিনি তার দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছেন।
এর আগে মাহফুজ আলম অন্তরবর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন ও পরিকল্পনা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। তার অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক যোগ্যতা নতুন উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ছাত্র-জনতার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীল সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলা তার প্রধান উদ্দেশ্য বলে দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও যুব সমাজের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও দায়-দরদের সমাজ গঠনের কাজ দীর্ঘমেয়াদী হলেও, শুরুতেই এটি দেশজুড়ে রাজনৈতিক সচেতনতা ও সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
মাহফুজ আলমের এই উদ্যোগ দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার ধারণাকে আরও দৃঢ় করতে পারে। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও যোগাযোগকে উৎসাহিত করার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি তার ফেসবুক পোস্টে নতুন বছরকে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে লক্ষ্য হচ্ছে ভুলত্রুটি শুধরে সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং সক্রিয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দায়িত্বশীলতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।
মোটকথা, মাহফুজ আলমের নতুন বছরের পরিকল্পনা মূলত ছাত্র-জনতার সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক সংহতি ও দায়-দরদের সমাজ গড়ার দিকে কেন্দ্রীভূত। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন সামাজিক সংহতি ও ন্যায্য নেতৃত্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।