জেলা প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে এক নবজাতক শিশুকে গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের বাচড়া ভূতের দিয়ার গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, শিশুর মা এবং তার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল চিকিৎসার কথা বলে আত্নগোপনে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে বাচড়া ভূতের দিয়ার গ্রামের দেলোয়ারের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে নন্দলালপুর গ্রামের নবী মণ্ডলের ছেলে করিম মণ্ডলের বিয়ে হয়। তবে সংসারে বনিবনা না হওয়ায় ছয় মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরে করিম মণ্ডল দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিবাহ বিচ্ছেদের পর গত রাতে জান্নাতুল ফেরদৌস কন্যা সন্তান জন্ম দেন। অভিযোগ রয়েছে যে, জন্মের পরপরই শিশুটিকে শৌচাগারে রেখে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে শিশুর মরদেহটি বাড়ির পেছনে মাটিতে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সকালে প্রতিবেশীরা বিষয়টি সন্দেহ করার পর ঘটনাস্থলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা বিকেলে ঘটনাটি জানতে পারেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় নবজাতকের মা-কে আটক করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের বিবরণ অনুযায়ী, করিম মণ্ডলের পরিবারের সদস্যরা জানান, করিমের একমাত্র সন্তান ছিল জান্নাতুল ফেরদৌসের গর্ভে থাকা শিশু। সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গলা কেটে হত্যার ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন পরিবারটির প্রতিবেশীরা।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিকভাবে কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে এবং আরও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা শিশুর হত্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে কাজ করছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের ঘটনা সামাজিক এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ঘটতে পারে। বিশেষ করে নতুন জন্ম নেওয়া শিশু ও মাতৃকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত পারিবারিক চাপ ও বিরোধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে।
শাহজাদপুর এলাকায় এই ধরনের নৃশংস ঘটনার ঘটনা সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে অনুসন্ধান করছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে।