জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কলার হাটে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কয়েকজন কলা ব্যবসায়ীকে চাপা দেওয়ায় ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং বাজারে থাকা ব্যবসায়ীদের দিকে ধেয়ে আসে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। নিহতরা সবাই স্থানীয় কলা ব্যবসায়ী ছিলেন। আহতের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ট্রাকটির ব্রেক ফেইল হওয়ার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানো হয়েছে। তবে সঠিক কারণ জানতে দুর্ঘটনার পর থেকে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।”
এ ধরনের দুর্ঘটনা এলাকায় নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং ট্রাক চালকদের অতিরিক্ত গতি বিষয়ক উদ্বেগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন যে, বাজার সংলগ্ন সড়কটি সরু হওয়ায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়। তবে অনেক সময় দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত যানবাহনের দ্রুততার কারণে তা দেরিতে সম্ভব হয়।
পুলিশ ও প্রশাসন দুর্ঘটনার পরে এলাকায় টহল জোরদার করেছে এবং ট্রাফিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি, ট্রাক চালক ও সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা দাবি করছেন, ভবিষ্যতে বাজার সংলগ্ন প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক সাইন এবং সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুতগামী ট্রাক ও লারি নিয়ন্ত্রণের জন্য শর্তানুযায়ী গতি সীমা, নিয়মিত যানবাহন পরিদর্শন এবং চালকদের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, বাজার এলাকার সঙ্গে সংলগ্ন প্রধান সড়কগুলোতে আলাদা লেন ব্যবস্থা থাকলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং নিহতদের পরিবারকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এদিকে, আহত ব্যক্তির অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে চিকিৎসকরা নিরন্তর তত্ত্বাবধান করছেন।