রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ১৫ নেতার বহিস্কারাদেশ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) প্রত্যাহার করা হয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুর কবির রিজভী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইতোপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপের কারণে বিভিন্ন জেলায় ১৫ নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। এই নেতাদের মধ্যে ছিলেন হবিগঞ্জ জেলাধীন বাহুবল উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোছা আলফা বেগম, সিলেট জেলাধীন বিয়ানীবাজার উপজেলার ৭নং মাথিউরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. কছির আলী, মৌলভীবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইসহাক আহমেদ চৌধুরী মামনুন, সিরাজগঞ্জ জেলাধীন চৌহালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহফুজা খাতুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য খাজা আহাম্মদ সরদার, ফেনী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন দুলাল, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মহসিন পাটোয়ারী, ফেনী পৌরসভার ১৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল আলী, খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব হাসান পিয়ারু, মৌলভীবাজার জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাহেনা বেগম, নেত্রকোনা জেলাধীন মোহনগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদ মিয়া, গাজীপুর জেলাধীন কালিয়াকৈর পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. হারিজ উজ্জামান হারিজ ও ফরিদপুর জেলাধীন চরভদ্রাসন উপজেলা বিএনপি নেতা ফারুক হোসেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই নেতারা তাদের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করলে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ তাদের প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের দলের সকল পর্যায়ের পদে পুনঃস্থাপন নিশ্চিত হয়েছে।
তদ্ব্যতীত, বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গাইবান্ধা জেলাধীন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ এবং নওগাঁ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও নওগাঁ জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোছা ফাতেমা খাতুনও শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপের কারণে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। তাদের অব্যাহতি আদেশও একই দিনে, ৬ জানুয়ারি ২০২৬, দলের সিদ্ধান্তে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি নেতাদের পুনঃস্থাপন করা রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এবং সংগঠন শক্তিশালীকরণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত বিএনপির ভেতরে একপেশে বহিস্কারের পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় নেতৃত্বের এই পদক্ষেপ সাংগঠনিক ঐক্য এবং দলের ভেতরে সমন্বয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বহিস্কৃত নেতাদের পুনঃস্থাপন দলের কর্মীদের মধ্যে মানসিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পুনঃস্থাপন প্রক্রিয়া নির্বাচন ও স্থানীয় রাজনীতিতে দলের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। বিএনপির এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দলের একীকরণ ও সক্রিয় অংশগ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।