বিনোদন ডেস্ক
রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এবারের উৎসবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯১টি দেশের মোট ২৪৬টি পূর্ণদৈর্ঘ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে। নয়দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের পর্দা নামবে আগামী ১৮ জানুয়ারি।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং উৎসব কমিটির নির্বাহী সদস্য জালাল আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শিওপেং এবং ক্রোয়েশিয়ান বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যপ্রবাসী চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মারকোভিচ। স্বাগত বক্তব্য দেন উৎসবের পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল।
এবারের উৎসবের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শুধু রাজধানী ঢাকায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। ঢাকার পাশাপাশি পর্যটন নগরী কক্সবাজারের লাবণী সৈকত এলাকাতেও নির্বাচিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের মতে, রাজধানীর বাইরে চলচ্চিত্র উৎসব সম্প্রসারণের লক্ষ্য থেকেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকায় উৎসবের প্রদর্শনী স্থান হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, থ্রিডি আর্ট গ্যালারি এবং ভিনটেজ কনভেনশন হল। প্রতিদিন বিভিন্ন সময়সূচিতে এসব স্থানে উৎসবের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।
উদ্বোধনী ভাষণে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক মাধ্যম, যা বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান চাপ, হতাশা এবং সামাজিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে ভূমিকা রাখে। তিনি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মূল্যবোধ, জ্ঞান ও সংস্কৃতি বিনিময়ের গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি কক্সবাজারে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে পরিবেশ সচেতনতার বিষয়টি সামনে আনেন এবং প্লাস্টিকজাতীয় পণ্যের ব্যবহার পরিহারের আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে এই চলচ্চিত্র উৎসব বিভাগীয় শহরগুলোতেও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শিওপেং তার বক্তব্যে এবারের আয়োজনের একটি অংশকে চীনা চলচ্চিত্র সপ্তাহ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি চলচ্চিত্রকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে প্রদর্শিত হয় চীনা পরিচালক চেন শিয়াং পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘উ জিন ঝি লু’। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সাংস্কৃতিক বিনিময়কে তুলে ধরতে জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে চীনা চলচ্চিত্র বিষয়ক একটি বিশেষ প্রদর্শনী কর্নার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় থিয়েটিক্যাল কোম্পানি ও জলতরঙ্গের পরিবেশনায় নৃত্য ও সংগীতনির্ভর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে।
উৎসব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের চলচ্চিত্রগুলো বিভিন্ন বিভাগে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, বাংলাদেশ প্যানোরামা, রেট্রোস্পেকটিভ, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, উইমেন ফিল্মমেকার, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্মস, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস এবং চিলড্রেন ফিল্ম সেশন। এসব বিভাগে সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতা, মানবিক সংকট, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং শিশুদের উপযোগী বিষয়বস্তুর চলচ্চিত্র স্থান পেয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা, সমালোচক, শিক্ষার্থী এবং দর্শকদের অংশগ্রহণে এবারের উৎসব বাংলাদেশের চলচ্চিত্র চর্চা ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।