আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কলম্বিয়ার মধ্য-পূর্বাঞ্চলে একটি ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দেশটির জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইয়েসন জিমেনেজসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। একই দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (১০ জানুয়ারি) দেশটির বোয়াকা বিভাগের পাইপা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট হিসেবে মেডেলিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। যাত্রাপথে উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাইপা ও ডুইতামা এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে মোট ১১ জন আরোহী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল, পুলিশ এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই রানওয়ের শেষ প্রান্তের কাছাকাছি এলাকায় পড়ে যায়। দুর্ঘটনার আগে ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজে রানওয়েতে ছোট আকারের বিমানটিকে ট্যাক্সি করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট নয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। কারিগরি দুর্ঘটনা তদন্ত অধিদপ্তর ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করছে এবং বিমানের কারিগরি অবস্থা, আবহাওয়া পরিস্থিতি, পাইলটের অভিজ্ঞতা ও উড্ডয়নসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিহতদের মধ্যে থাকা ইয়েসন জিমেনেজ কলম্বিয়ার সংগীতাঙ্গনে একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি দেশটির আঞ্চলিক ও জনপ্রিয় সংগীত ধারায় নিয়মিত পারফর্ম করতেন এবং বিভিন্ন শহরে সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিতেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার দিন মেডেলিনে যাওয়ার পর রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে মারিনিলা এলাকায় একটি সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার স্বার্থে ঘিরে রাখা হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হচ্ছে।
কলম্বিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছোট ও ব্যক্তিগত বিমানের দুর্ঘটনা তদন্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য গণমাধ্যমের কাছে জানানো হবে।