প্রযুক্তি ডেস্ক
২০২৬ সালের দিকে এগোবার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি জগতের নতুন প্রবণতা এবং উদ্ভাবনের দিকে দৃষ্টি সরে এসেছে। ২০২৫ সালে বিভিন্ন উদ্ভাবন যেমন হিউম্যানয়েড রোবট, ফোল্ডিং ফোন, এবং এআই-রেডি সিপিইউ-এর সম্ভাবনা আলোচনায় থাকলেও ২০২৬ সালের জন্য বাজার ও ব্যবহারকারীরা নতুন চমকের অপেক্ষায়।
সবচেয়ে বড় প্রবণতা হিসেবে এআই-এর বিস্তারকে ধরা যেতে পারে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ২০২৬ সালে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও গভীরভাবে প্রবেশ করবে। ওপেনএআই সম্ভবত তাদের পরবর্তী বড় মডেল জিপিটি-৬ বাজারে আনবে, যা যুক্তি, বিশ্লেষণ এবং জ্ঞানভাণ্ডারের দিক থেকে পূর্ববর্তী মডেলগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি প্রদর্শন করবে। এআই-ভিত্তিক সেবার সঙ্গে বিজ্ঞাপন সংযোগের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো আয়ের নতুন উৎস তৈরি করবে। তবে মানুষের মতো চিন্তাশক্তি সম্পন্ন কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (এজিআই) ২০২৬ সালে আসবে কি না তা নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ২০২৮ সালের আগে বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব নয়। বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে ‘পলিম্যাথিক এআই’ তৈরি করা, যা একই সঙ্গে সংগীত, শিল্প, পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন বিষয়ে সম্যক জ্ঞান রাখতে সক্ষম হবে।
এআই বাজারে প্রতিযোগিতা মূলত দুটি প্রধান কোম্পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ হবে—ওপেনএআই এবং গুগল। গুগল তাদের জেমিনি এআইকে বিভিন্ন সেবার সঙ্গে একীভূত করবে। অন্যদিকে চ্যাটজিপিটি পূর্ণাঙ্গ সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে গুগলের সমকক্ষ হতে চাইবে। এ বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিয়ন্ত্রণে সরকারি আইনপ্রণয়ন হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও, কোম্পানিগুলো নীতি এবং ব্যবহারগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে আরও নজরদারি অব্যাহত রাখবে।
চিপ ও হার্ডওয়্যার খাতে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া র্যাম সংকট ২০২৬ সালে আরও তীব্র হবে। সরবরাহের অভাবে র্যামের দাম বাড়তে পারে। এআই চিপ বাজারে এনভিডিয়ার আধিপত্য বজায় থাকলেও, সাধারণ গেমারদের জন্য সাশ্রয়ী জিপিইউ তৈরি কম হতে পারে। ল্যাপটপ ও পিসি প্রসেসরে বড় পরিবর্তন আসছে। স্ন্যাপড্রাগন এক্স সিরিজ চিপ কোয়ালকমকে উইন্ডোজ পিসির বাজারে প্রবেশ করিয়েছে। ২০২৫ সালে ৮০০ ডলারের বেশি দামের ল্যাপটপের বাজারে তাদের শেয়ার ১০% ছাড়িয়েছে, যা ইন্টেল এবং এএমডির জন্য নতুন প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত।
অ্যাপলের জন্য ২০২৬ সাল বিশেষ হতে পারে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এআর চশমা বা ‘অ্যাপল গ্লাস’ বছরের শেষের দিকে বাজারে আসতে পারে। এটি মেটার স্মার্ট গ্লাসের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে। টিম কুক এখনও সিইও হিসেবে থাকলেও জন টার্নাসকে পরবর্তী উত্তরসূরি হিসেবে তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হবে। সিরি সহ এআই সহকারী আরও ক্ষমতাবান হয়ে উঠবে, বিশেষত গুগল জেমিনির সঙ্গে একীভূত হওয়ার পর।
ফোল্ডেবল ফোনের বাজার ২০২৬ সালে আরও সম্প্রসারিত হবে। স্যামসাং তাদের Galaxy Z Trifold মার্কিন বাজারে লঞ্চ করবে। অ্যাপলও প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন-আইপ্যাড বাজারে আনতে পারে, তবে উচ্চমূল্য সাধারণ গ্রাহকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে।
রোবোটিক্স খাতে নতুন অগ্রগতি দেখা দেবে। ১এক্স (1X) কোম্পানি তাদের ২০,০০০ ডলার মূল্যের ‘নিও বিটা’ রোবট সরবরাহ শুরু করবে। তবে সাধারণ মানুষের ঘরে ব্যবহারের জন্য রোবটগুলো এখনও পুরোপুরি কার্যকর নয়। হোম রোবটের ব্যবহারিক কার্যকারিতা আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করার পরই সম্ভব হবে।
অন্যান্য সম্ভাব্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে—বিজ্ঞাপনে এআই অভিনেতাদের ব্যবহার বৃদ্ধি, উইন্ডোজের পরবর্তী সংস্করণ ‘উইন্ডোজ কোপাইলট’ সম্ভাবনা, এআই হার্ডওয়্যার বাজারে নতুন উদ্যোগ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব কিছুটা কমে আসা। পাশাপাশি, এআই চালিত নেটওয়ার্ক হামলার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে, যা বড় প্ল্যাটফর্ম ও ক্লাউড পরিষেবা প্রভাবিত করতে পারে।
২০২৬ সালের প্রযুক্তি বাজারে এআই, রোবোটিক্স, ফোল্ডেবল ফোন ও নতুন প্রসেসরের প্রভাব এবং প্রতিযোগিতা মূল বিষয়বস্তু হিসেবে থাকছে। এই বছর উদ্ভাবন এবং বাজারের অস্থিরতা প্রযুক্তিপ্রেমী এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ উভয়ই নিয়ে আসবে।

