শিক্ষা ডেস্ক
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর আলোকে সংবিধান সংস্কারের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে শিক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের কাছে গণভোট সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পৃথকভাবে প্রেরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় গণভোটের লোগো সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করতে হবে। এছাড়া, সরকারি সকল যোগাযোগ ও দপ্তরিক চিঠিপত্রে নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত গণভোটের লোগো ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মাউশির সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুইটি খাড়া ব্যানার দৃশ্যমান স্থানে স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে, শিক্ষার্থীদের ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ আরিফুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এই বার্তা পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নোটিশ বোর্ড, অভিভাবক সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে গ্রহণ করা হয়েছে।
‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কারের মূল দিকগুলো নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলো হলো— প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছরের মেয়াদ সীমা নির্ধারণ, জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন, নির্বাচন কমিশন ও পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠনে সরকারি ও বিরোধী দলের যৌথ অংশগ্রহণ, এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রদর্শিত সচেতনতামূলক ব্যানারে ভোটারদের কাছে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ব্যানারে লেখা হয়েছে, ‘পরিবর্তনের চাবি এবার আপনার হাতে,’ যা ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের ভূমিকা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রসংবিধান সংশোধনের বিষয়ে জনগণের মতামত সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।