রাজধানী ডেস্ক
রাজধানী থেকে ময়মনসিংহের ভালুকায় যাওয়ার পথে জাতীয় যুবশক্তির সদস্য সচিব ও ময়মনসিংহ-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত এনসিপির প্রার্থী ডা. জাহেদুল ইসলাম মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত একটায় একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। দুর্ঘটনায় তিনি, তার স্ত্রী ও ছোট ভাগ্নে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর তাদের অবস্থাকে গুরুতর বলা যাচ্ছে না।
ডা. জাহেদুল ইসলামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা রাত একটার দিকে তাদের প্রাইভেটকারে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের সামনে ফ্লাইওভারের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ পেছন থেকে একটি কাভার্ডভ্যান তাদের গাড়িকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার প্রভাবে গাড়িটি টেনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রাইভেটকারটির বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পর কাভার্ডভ্যান চালক পালিয়ে গেলে বিমানবন্দর থানা পুলিশ তা আটক করে। পুলিশ ইতোমধ্যে কাভার্ডভ্যানের চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত শুরু করেছে।
ডা. জাহেদুল ইসলাম মনে করছেন, দুর্ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনো ষড়যন্ত্র বা হত্যাচেষ্টার অংশ হতে পারে। যদিও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং কোনো রাজনৈতিক প্রভাব আছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সম্প্রতি গাড়ি চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিবেচিত হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে যাত্রী সুরক্ষা ও যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন সময় স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করে থাকে। এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে মহাসড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ডা. জাহেদুল ইসলাম বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণরত প্রার্থী হিসেবে এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে ভোটারদের সচেতন ও নিরাপদ পরিবহণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণার সময় রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কাভার্ডভ্যান চালক গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে প্রাইভেটকারের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটেছে। তবে পুলিশ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, কোনো অবহেলা বা অন্য কোনো প্রভাব আছে কি না তা যাচাই করছে। মামলার প্রেক্ষিতে চালক ও মালিককে দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ শাস্তি দেওয়া হবে।
সড়ক দুর্ঘটনার কারণে স্থানীয় জনগণ ও নির্বাচনী এলাকায় প্রচার কার্যক্রমের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবহণ এবং নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রার্থীসহ আহত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং চিকিৎসা চলমান।