খেলাধূলা ডেস্ক
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারতের মাটিতে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ক্রিকেট বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে নতুনভাবে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতীয় মাটিতে নিজেদের ম্যাচ খেলতে আপাতত অনিচ্ছুক। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা মূল্যায়ন করে বিসিবি এই অবস্থান নিয়েছে এবং শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিষদের (আইসিসি) সঙ্গে বাংলাদেশ এই বিষয় নিয়ে চলমান আলোচনায় আছে। তবে এখনও পর্যন্ত আইসিসি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি, এবং বাংলাদেশকে ভারতে গিয়ে খেলতে অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ভারতের কড়া ভিসানীতি আরও জটিলতা সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী বা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, কানাডা এবং নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন দলের ক্রিকেটাররা এই নীতির কারণে সমস্যা সম্মুখীন হচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার আলি খান ভিসা না পাওয়ায় দলের সঙ্গে ভারতের যাত্রা করতে পারেননি। এমন পরিস্থিতি প্রতিটি দেশের স্কোয়াড পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করছে।
এমন ভিসা জটিলতার কারণে অন্তত ছয়টি দেশের প্রধান খেলোয়াড়রা ভারতীয় মাটিতে অংশ নিতে পারছেন না। এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, কারণ দলগুলো তাদের পূর্ণশক্তি নিয়ে খেলতে পারছে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই সমস্যাগুলি কেবল বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়।
বাংলাদেশের বিষয়টি আলাদা। এখানে মূল উদ্বেগ নিরাপত্তা সংক্রান্ত, যেখানে ভারতীয় মাটিতে খেলার ঝুঁকি বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের ভিসা জটিলতার কারণে বিভিন্ন দলের মূল খেলোয়াড়রা খেলায় অংশ নিতে পারছেন না। আইসিসি, যেহেতু এটি একটি দেশের অভ্যন্তরীণ নীতির সঙ্গে যুক্ত, এককভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে পারছে না।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী দলগুলো জানুয়ারির শেষের মধ্যে তাদের স্কোয়াড চূড়ান্ত করতে হয়। তবে প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারী দেশ সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় সূচি মেনে খেলা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যদি সময়মতো স্কোয়াড চূড়ান্ত করা না যায়, তাহলে বিশ্বকাপের আয়োজনেও প্রভাব পড়তে পারে।
পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাধা বড় প্রভাব ফেলেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভারতে অংশ নিয়েছিল, যেখানে পরবর্তী চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে যাতায়াত করতে অংশ নেয়নি। এই ধরনের ‘হাইব্রিড’ পদ্ধতি বিভিন্ন বিশ্ব ইভেন্টে ব্যবহার হয়েছে।
এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে আইসিসিকে ভেন্যু পরিবর্তনের মতো বিকল্পগুলো বিবেচনা করতে হতে পারে। এটি নিশ্চিত করবে যে, সব দল সমানভাবে তাদের সেরা খেলোয়াড় নিয়ে অংশ নিতে পারবে এবং প্রতিযোগিতা ন্যায্য ও পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা মোকাবিলায় আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি। না হলে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আয়োজন চূড়ান্ত ঝুঁকিতে পড়তে পারে।