অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
কুয়েত সরকার বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের হিমায়িত পোল্ট্রি মাংস, মাংসজাত পণ্য এবং ডিম আমদানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই আমদানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা কুয়েতের বাজারে পোল্ট্রি মাংস, বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত মাংসজাত পণ্য এবং ডিম রপ্তানি করতে পারবে। তবে আমদানির ক্ষেত্রে কুয়েতের প্রচলিত স্বাস্থ্যবিধি, খাদ্য নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, ট্রেডমার্ক নিবন্ধন এবং প্যাকেজিং সংক্রান্ত নিয়মাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে।
উল্লেখ্য, কুয়েতে বাংলাদেশি হিমায়িত পোল্ট্রি ও মাংসজাত পণ্যের আমদানি কার্যক্রম আগে স্বাস্থ্য ও মান সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে স্থগিত করা হয়েছিল। সে সময় কুয়েতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিকৃত পণ্যের মান, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বিত উদ্যোগে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও আশ্বাস প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশে পোল্ট্রি ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, হিমায়ন প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারের ফলে এই খাত ধীরে ধীরে রপ্তানিমুখী হয়ে উঠছে। কুয়েতের মতো বাজারে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ বাংলাদেশের এই খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য এবং সেখানে হালাল খাদ্যপণ্যের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সনদ প্রদান প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সনদ, উৎপাদন তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ এবং প্যাকেজিংয়ের তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের পোল্ট্রি ও মাংসজাত পণ্যের রপ্তানি আয় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতের বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি জোরদার হলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ কুয়েত থেকে মূলত জ্বালানি ও কিছু শিল্পপণ্য আমদানি করে থাকে, আর কুয়েতে বাংলাদেশের রপ্তানি সীমিত পরিসরে কেন্দ্রীভূত। নতুন করে পোল্ট্রি ও মাংসজাত পণ্যের রপ্তানি শুরু হলে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নে তা ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুফল পেতে হলে রপ্তানিকারকদের নিয়মিত মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন প্রক্রিয়া হালনাগাদ করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে তদারকি ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা এড়ানো সম্ভব হবে।
সামগ্রিকভাবে কুয়েতের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পোল্ট্রি ও মাংসজাত পণ্য রপ্তানি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যথাযথ প্রস্তুতি ও মান বজায় রাখা নিশ্চিত করা গেলে এই সুযোগ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।