খেলাধূলা ডেস্ক
আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের আগেই বিশ্বকাপ ট্রফি বাংলাদেশ সফর করেছে। গত বুধবার বাংলাদেশে এ ট্রফি প্রদর্শিত হয়, যা দেশের জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও শেখ মোরসালিনসহ খেলোয়াড়রা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। এই উপলক্ষে তারা জানিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে একদিন দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে বাংলাদেশও ফিফা বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা রাখে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অনুসারীর প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারবে। ইনফান্তিনো বলেন, “অবশ্যই, বাংলাদেশ ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো এমন দেশগুলোকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে দেখানো। আগামী বছরের বিশ্বকাপে কয়েকটি নতুন দল অংশ নিচ্ছে যারা আগে কখনও খেলেনি। আফ্রিকা থেকে কেপ ভার্দ, কনকাকাফ অঞ্চল থেকে কুরাসাও, এছাড়া উজবেকিস্তান এবং জর্ডানও প্রথমবারের মতো কোয়ালিফাই করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য দারুণ একটি দেশ। এখানে ফুটবল দ্রুত উন্নতি করছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব জায়গায় প্রতিভা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটি বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা রাখে। ফিফা বাংলাদেশে ফুটবল ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের উন্নয়নে যথেষ্ট বিনিয়োগ করছে।”
তবে বাংলাদেশ এখনো এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে একাধিকবার খেলতে পারেনি। ১৯৮০ সালে দেশটি এশিয়ান বাছাই পর্ব পার হয়ে চূড়ান্ত পর্বে খেলেছিল। এর পর থেকে মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন এখনও অধরা।
বর্তমানে দেশের ফুটবলে নতুন জাগরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেওয়ান হামজা চৌধুরী, শমিত সোমসহ প্রতিভাবান ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের যোগদানের ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত হয়েছে। এদের উপস্থিতি দেশের ফুটবলে নতুন উদ্দীপনা ও সম্ভাবনার বাতাবরণ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের হাত ধরে বাংলাদেশের ফুটবল দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে এবং ধীরে ধীরে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নও বাস্তবায়িত হতে পারে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং স্থানীয় ক্লাবগুলোও যুব ও বালক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের উন্নয়নে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে দেশের আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফিফা ট্রফির সফর খেলোয়াড় ও ভক্তদের মধ্যে আশা ও প্রেরণা জাগিয়েছে, যা দেশের ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।