জাতীয় ডেস্ক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে তার বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।
শফিকুল আলম বলেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিয়ন্ত্রিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা ও আমাদের বন্ধু দেশের কর্মকর্তারা এই নির্বাচনের সুষ্ঠু আয়োজন নিয়ে আশাবাদী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করছেন। তবে তিনি ইউটিউব ও টিকটকসহ সামাজিক মাধ্যমে কিছু ব্যক্তির দ্বারা প্রকাশিত নির্বাচনী সংশয় নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলমের মন্তব্যে উঠে এসেছে গত নভেম্বরের নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও তার প্রভাব। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে কিছু রাজনৈতিক ঘটনা ঘটেছে এবং সেই প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম ও তাদের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি এসময় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিভিন্ন দেশের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, বহির্বিশ্বের কোনো চাপ এই নির্বাচন বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলছে না।
শফিকুল আলম আরও উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচনী সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টিতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। তিনি বলছেন, নির্বাচনে কারো পক্ষপাতিত্ব বা ব্যাহত করার কোনো সুযোগ নেই এবং প্রতিটি ভোটাধিকারী তাদের ইচ্ছানুযায়ী অংশগ্রহণ করতে পারবে।
প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সাবেক সভাপতি মো. আরজু মিয়া, সহসভাপতি ইব্রাহিম খান সাদত, সাবেক সিনিয়র আল আমিন শাহীন, পীযূষ কান্তি আচার্য, সাবেক সহসভাপতি শেখ শহিদুল ইসলাম, মফিজুর রহমান লিমন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম শাহাজাদাসহ জেলা-সাপ্তাহিক ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় রাজনৈতিক পরিবেশ, ভোটার সচেতনতা ও সামাজিক মাধ্যমে প্রভাবিত নির্বাচনী মনোভাব নিয়েও আলোচনা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিরা এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করে বলেন। তিনি নির্বাচনী শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এই মন্তব্য ও অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট দেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

