জাতীয় ডেস্ক
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত দুই ব্যক্তি হাসনাত ও মাহিনের ওপর ছুরিকাঘাত ও সহিংস হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। দলটির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম এক বিবৃতিতে এ ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এলডিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৬ জানুয়ারি গভীর রাতে চন্দনাইশ উপজেলায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার জেরে হাসনাত ও মাহিনের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই কর্মসূচিতে একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। এলডিপির দাবি অনুযায়ী, ওই প্রতিবাদ কর্মসূচির পরপরই পরিকল্পিতভাবে হামলা সংঘটিত হয়।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে ড. অলি আহমদ বলেন, প্রকাশ্যে মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে কোনো ব্যক্তির ওপর এ ধরনের হামলা গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তিনি এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মতপ্রকাশ দমন করার প্রবণতা রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
বিবৃতিতে এলডিপি সভাপতি অভিযোগ করেন, পতিত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে এবং এর ফলে রাজনৈতিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ড. অলি আহমদ তার বিবৃতিতে বিরোধী দল বিএনপির ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, কোনো দলের পরিচয়ে অপরাধী কর্মকাণ্ডের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন।
এলডিপির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি আন্দোলন ও তার সঙ্গে জড়িত মূল্যবোধের ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলটির দাবি, ওই আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সচেতনতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে যে সংগ্রাম হয়েছে, তার অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলার ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। তবে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এলডিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এই সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করা জরুরি। দলটি মনে করে, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এসব ঘটনার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে এবং রাজনৈতিক পরিবেশ আরও সংঘাতমুখী হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে সব রাজনৈতিক দলের সংযত আচরণ ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে সংঘটিত এই হামলার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের জবাবদিহি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।