রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ ১৯ জানুয়ারি। ১৯৩৬ সালের এই দিনে তিনি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মনসুর রহমান পেশায় একজন রসায়নবিদ ছিলেন।
জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গত ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ ১৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে দলের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল ২০ জানুয়ারি সকাল ১১টায় কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য রাখবেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
জিয়াউর রহমানের কর্মজীবন শুরু হয় সামরিক বাহিনীতে। পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৫৫ সালে তিনি কমিশন লাভ করেন এবং পরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে তিনি একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ে তিনি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি বিভিন্ন সেক্টরে দায়িত্ব পালন করেন এবং ‘জেড ফোর্স’-এর ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন। যুদ্ধকালীন অবদানের জন্য তাঁকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীর উত্তম’ প্রদান করা হয়।
স্বাধীনতার পর তিনি সশস্ত্র বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৭৫ সালে সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন। একই বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন। ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জিয়াউর রহমান সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নেন। সংবিধানের প্রস্তাবনায় পরিবর্তন আনা, রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড পুনরায় চালুর সুযোগ সৃষ্টি এবং সংসদীয় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনঃপ্রবর্তনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হয়। ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁর সরকার বেসরকারি খাতের বিকাশ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি তাঁর শাসনামলের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে তাঁর উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানের সময় জিয়াউর রহমান নিহত হন। ঢাকার শেরেবাংলা নগরে তাঁকে সমাহিত করা হয়। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন তাঁর জীবন ও কর্মকাণ্ড স্মরণ করছে।