আইন আদালত ডেস্ক
চানখারপুলে ২০২৪ সালের শিক্ষার্থী আন্দোলনের ঘটনায় শাহরিয়ার খান আনাসসহ ছয়জন নিহত হওয়া মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করবে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)। বাংলাদেশ টেলিভিশন রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করবে।
মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন— শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম। একইসঙ্গে চারজন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
মামলাটির অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনায় শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক এবং মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। এই ঘটনায় সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল।
গত ১৪ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দেন। সেই সময়ে আদালত উল্লেখ করেন, নিহতদের পরিবার ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা প্রক্রিয়া শুরু হবে। মামলার মোট আসামি আটজন, যার মধ্যে চারজন আদালতে হাজির ছিলেন এবং চারজন পলাতক।
বিচারের প্রক্রিয়ায় পুলিশি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আচরণ ও নিপীড়ন বিষয়ক বিস্তৃত সাক্ষ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। মামলায় পুলিশের বিশেষ তদারকি, ঘটনার দিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রায় ঘোষণার ফলাফল বাংলাদেশের শিক্ষার্থী আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে গণ্য হবে। আদালতের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী আন্দোলন ও পুলিশি দায়িত্ব ও সীমারেখা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
আদালতের রায় ঘোষণার পর নিহতদের পরিবার, শিক্ষার্থী সংগঠন এবং সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।