খুলনা — জেলা প্রতিনিধি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা জেলা শাখার সদস্য পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানাধীন নেসার উদ্দিন সড়কের একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, আল নাঈম ও মিরাজ গাজী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাডাঙ্গা মডেল থানার আওতাধীন নেসার উদ্দিন সড়কে বসবাসকারী শাহনাজ পারভীনের বাবা এস এম শফিকুল ইসলাম সানা ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তিনি কয়েকদিন আগে কয়রা উপজেলা থেকে খুলনা শহরে মেয়ের বাসায় আসেন। ওই সময় পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
সোমবার দুপুরে তিন যুবক ওই বাসায় গিয়ে উপস্থিত হন। তারা নিজেদের একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দাবি করে বাসার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের একজন নিজেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির খুলনা জেলা শাখার সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওই বাসায় আওয়ামী লীগের একজন নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। এরপর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তিন যুবক কথাবার্তায় চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন এবং দ্রুত টাকা দেওয়ার জন্য পরিবারকে তাগিদ দেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে শাহনাজ পারভীন তাৎক্ষণিকভাবে সোনাডাঙ্গা থানায় যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি করেছেন। তবে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও চাঁদা দাবির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করছে।
এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের একজন নিজেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির খুলনা জেলা শাখার সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং তারা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে এটি চাঁদা দাবির একটি অভিযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কি না, তা যাচাই না করে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাবে না। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় এ ধরনের ঘটনার কথা আগে শোনা যায়নি। রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ এলাকায় উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অনুরূপ অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তারা যে রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, সেটির সঙ্গে তাদের প্রকৃত কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।