রাজনীতি ডেস্ক
কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে অসুস্থ হয়ে জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া জেলা শাখার আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেমের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার রাতে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়।
শোকবার্তায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ এবং সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়, অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়ায় আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। জেলা বিএনপি তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এবং তাঁর অবদান স্মরণ করে।
শোকবার্তায় বিএনপি নেতারা উল্লেখ করেন, অধ্যাপক আবুল হাশেম দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে একটি পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে কাজ করে গেছেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখার সময় অধ্যাপক আবুল হাশেম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাঁকে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।
অধ্যাপক আবুল হাশেম কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, তিনি জেলার রাজনীতিতে একটি পরিচিত মুখ ছিলেন এবং দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
এই ঘটনায় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে একজন শীর্ষ স্থানীয় নেতার আকস্মিক মৃত্যু সংশ্লিষ্ট দলগুলোর জন্য সাংগঠনিক ও কৌশলগত দিক থেকে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নির্বাচন কেন্দ্রিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।
এদিকে, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অধ্যাপক আবুল হাশেমের মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত চিকিৎসা প্রতিবেদন প্রকাশের কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং মৃত্যুর ঘটনায় কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
অধ্যাপক আবুল হাশেমের মৃত্যুতে কুষ্টিয়া জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দল ও সংগঠন পৃথকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে তাঁর ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলগুলো তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।
সার্বিকভাবে, বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে একজন রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর ঘটনা কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ঘটনা ভবিষ্যতে জেলার রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত প্রস্তুতির বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।