সারাদেশ ডেস্ক
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৬ এর ব্লক-ডি তে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, এতে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার শতাধিক বসতঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় রোহিঙ্গাদের যৌথ উদ্যোগে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টা চালানোর পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
উখিয়ার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা জানান, ভোরে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রোহিঙ্গা কর্মীদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শীতকালীন মরসুমে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও এক রাতে কয়েক হাজার বসতঘর পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, কখনও কখনও এতে প্রাণহানিও ঘটেছে। এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা ঘরবাড়িসহ সমস্ত সম্পদ হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা দুর্ভোগে পড়েন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বসতঘরগুলি প্রধানত বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে নির্মিত, যা আগুনের সংক্রমণ দ্রুত ঘটায়। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার পর দ্রুত প্রাথমিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। এছাড়া, ক্যাম্পের সংকীর্ণ পথ ও ঘন বসতি আগুন নেভাতে সহযোগিতাকে কঠিন করে তোলে।
স্থানীয় প্রশাসন ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণসামগ্রী এবং সাময়িক আশ্রয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, শীত মৌসুমে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রান্নার চুলা ও অনিরাপদ হিটিং পদ্ধতির কারণে আগুনের ঝুঁকি বাড়ে।
উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনের প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণের কারণে পুনরায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ক্যাম্প ব্যবস্থাপনার আধিকারিকরা আগাম সতর্কতা এবং আগুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে স্থানীয় সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় গ্রহণ করছে। মানবিক সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য, পানি, ও বস্ত্র সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুনের পর মানুষজন আতঙ্কিত এবং ঘরবাড়ি হারিয়ে তারা সম্পূর্ণভাবে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামি দিনে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে ক্যাম্পের স্থায়ী এবং অস্থায়ী বসতি এলাকায় আগুন সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে।