আইন আদালত ডেস্ক
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের বড়আখিড়া মন্ডলপাড়ায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা সম্পর্কে বন্ধু এবং তারা ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত রবিবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে আদমদীঘি থানায় এ সংক্রান্ত মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের গ্রেফতার করে। সোমবার বিকেলে আদমদীঘি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলো—উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের বড়আখিড়া মন্ডলপাড়া গ্রামের নেপাল চন্দ্র সরকারের ছেলে শিপন কুমার সরকার এবং একই গ্রামের সত্য নাথের ছেলে সজল দাস সঞ্জয়।
মামলার এজাহার এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই শিশু শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। এ সময় তার বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত সজল দাস সঞ্জয় কৌশলে ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে যায়। আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিলেন মামলার আরেক আসামি শিপন কুমার সরকার। পরবর্তীতে তারা দুজন মিলে শিশুটিকে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার মুখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
ঘটনার ভয়াবহতা এখানেই শেষ হয়নি। অভিযুক্তরা ধর্ষণের সময় মুঠোফোনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখে। ধর্ষণের পর তারা শিশুটিকে হুমকি দেয় যে, এই ঘটনার কথা পরিবারের কাউকে বা অন্য কাউকে জানালে তাকে হত্যা করা হবে। এছাড়া ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও ফেসবুক এবং টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে মানসিকভাবে জিম্মি করে ফেলা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনার পর ওই শিশু শিক্ষার্থী চরম আতঙ্ক ও ভয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অভিযুক্তদের হত্যার হুমকি এবং লোকলজ্জার ভয়ে সে বেশ কয়েকদিন ঘটনাটি পরিবারের কাছে গোপন রাখে। তবে মানসিক যন্ত্রণায় একপর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেলে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। অবশেষে গত রবিবার সন্ধ্যার দিকে শিশুটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে পৈশাচিক এই নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ দেয়।
ঘটনাটি জানার পরপরই ভুক্তভোগীর মা ন্যায়বিচারের স্বার্থে রবিবার রাতেই আদমদীঘি থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত সজল দাস সঞ্জয় ও শিপন কুমার সরকারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই আদমদীঘি থানা পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এবং রাতেই নিজ এলাকা থেকে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়।
আদমদীঘি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি আমলে নেয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্ত দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, গ্রামীণ জনপদে এ ধরনের অপরাধ এবং বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সামাজিকভাবেও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বর্তমানে এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য বিরাজ করছে এবং এলাকাবাসী দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।