নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এই আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও আস্থা প্রকাশ করেছেন জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা। এর মধ্য দিয়ে হাতিয়া আসনে জোটগতভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার বিষয়টি চূড়ান্ত হলো।
গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে হাতিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় জোটভুক্ত দলগুলোর স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর তারা দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর ঐক্যের খাতিরে আব্দুল হান্নান মাসউদকে বিজয়ী করতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনী সূত্র অনুযায়ী, ১০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক সারাদেশে আসন বণ্টনের অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ৩০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫৩টি আসনে জোটগত প্রার্থী ঘোষণার তালিকায় নোয়াখালী-৬ আসনে আব্দুল হান্নান মাসউদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের অন্য শক্তিশালী শরিকরা এই সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করায় নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাতিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঐক্যের গুরুত্ব অপরিসীম। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা এবং স্থানীয় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের কারণে এই আসনে সংহতি বজায় রাখা যেকোনো জোটের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। সভায় উপস্থিত হাতিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার বোরহানুল ইসলাম বলেন, “হাতিয়ার উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তির স্বার্থে আমরা এই ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং নৈতিক ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এই ঐক্য ভূমিকা রাখবে।”
এদিকে জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক আব্দুল হান্নান মাসউদের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “একটি উন্নত, আধুনিক ও সমৃদ্ধ হাতিয়া গড়া আমাদের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য অর্জনে আমরা ভেদাভেদ ভুলে জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১০ দলীয় জোটের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান হাতিয়ার নির্বাচনী মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে। যদিও শুরুতে জোটের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছিল, তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে সেই জটিলতা কেটে গেছে। তৃণমূলের কিছু নেতার মতে, প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় সমন্বয় আরও নিবিড় হতে পারত। তবে আব্দুল হান্নান মাসউদের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা বিরোধগুলো প্রশমিত করতে সহায়ক হয়েছে।
সমর্থন পাওয়ার পর আব্দুল হান্নান মাসউদ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান, জোটের এই সংহতি হাতিয়ার সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বিশ্বাস করেন, সকল দলের সক্রিয় অংশগ্রহণে একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে হাতিয়াবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব হবে।
জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নোয়াখালী-৬ আসনটি নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ কাজ করছে। দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মূল সমস্যাগুলো সমাধানে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে এই জোটগত ঐক্য কতটুকু প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তারা যৌথভাবে নির্বাচনী প্রচারণার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রণয়ন করবেন।