1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

বিনোদন ডেস্ক

ভারতীয় সংগীতাঙ্গনের প্রখ্যাত শিল্পী আশা ভোঁসলে সংগীতের পাশাপাশি রন্ধনসংস্কৃতির ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবিতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত রেস্তোরাঁ ‘আশা’-তে নতুন হায়দরাবাদি মেনু যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সংগীত, খাবার এবং জীবনের অভিজ্ঞতার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন।

সাতবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারপ্রাপ্ত এই শিল্পী একসময় নিজেই অনুরোধ জানিয়েছিলেন যেন তাঁকে আর প্রতিযোগিতামূলক পুরস্কারের আওতায় না আনা হয়। সংগীতকে তিনি সবসময় জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি মুহূর্ত, উপলক্ষ কিংবা আবেগের সঙ্গে কোনো না কোনো গান জড়িয়ে আছে। সাক্ষাৎকার চলাকালে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে পেরে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে গান গেয়ে ওঠেন, যা তাঁর দীর্ঘ সংগীতচর্চার স্বাভাবিক প্রকাশ হিসেবেই প্রতীয়মান হয়।

সংগীতের পাশাপাশি রান্না ও খাবারের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক গভীর ও দীর্ঘদিনের। ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্মৃতির সঙ্গে রান্না ও পারিবারিক আবহ জড়িয়ে আছে। তিনি স্মরণ করেন, রেকর্ডিং শেষ করে বাড়ি ফিরলে তাঁর ছেলে আনন্দ প্রায়ই জিজ্ঞেস করত তিনি ক্লান্ত কি না। এই প্রশ্নের মধ্যেই থাকত খাবারের ইঙ্গিত, আর তখনই তিনি রান্নাঘরে চলে যেতেন। তাঁর মতে, ছেলের ইচ্ছাই ছিল মায়ের রান্নার স্বাদ বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যা পরবর্তীতে ‘আশা’ রেস্তোরাঁর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।

দুবাই ও আবুধাবিতে পরিচালিত ‘আশা’ রেস্তোরাঁর প্রতিটি নতুন মেনুর পেছনে রয়েছে আলাদা ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা। নতুন সংযোজিত ‘রয়্যাল হায়দরাবাদি টেবিল’ মেনুর অনুপ্রেরণা আসে ১৯৬২ সালে হায়দরাবাদে প্রথম নিজামি খাবারের স্বাদ গ্রহণের অভিজ্ঞতা থেকে। সে সময় বোন লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে একটি সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে তিনি ওই অঞ্চলের খাবারের সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে হায়দরাবাদি বিরিয়ানি ও ঐতিহ্যবাহী বেগুনের তরকারি রান্না শেখেন এবং বিভিন্ন শহরে ভ্রমণের সময় স্থানীয় রেসিপি সংগ্রহ করাকে অভ্যাসে পরিণত করেন।

শৈশব থেকেই রান্নার সঙ্গে তাঁর পরিচয়। পিতা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকরের মৃত্যু হয় যখন তাঁর বয়স মাত্র নয় বছর। বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর স্মরণানুষ্ঠানে বহু মানুষের জন্য রান্নার আয়োজন করা হতো। সেই সময় রাত থেকে শুরু করে পরদিন পর্যন্ত রান্নার কাজ চলত, যেখানে তিনি ও তাঁর বোন সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। এই অভিজ্ঞতাই ধীরে ধীরে তাঁকে নিরামিষের পাশাপাশি আমিষ রান্নার দিকেও আগ্রহী করে তোলে। এখনও নতুন মেনু চালুর সময় তাঁকে প্রায়ই রেস্তোরাঁর শেফদের সঙ্গে রান্নায় অংশ নিতে দেখা যায়।

বর্তমানে ‘আশা’ রেস্তোরাঁ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিযোগিতামূলক রেস্তোরাঁ ব্যবসায় টানা ২২ বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান ধরে রেখেছে। আশা ভোঁসলে মনে করেন, তিনি ও তাঁর ছেলে আনন্দ মিলে একটি রন্ধনঐতিহ্য গড়ে তুলেছেন, যা দীর্ঘদিন মানুষের স্মৃতিতে থাকবে। তিনি জানান, মুম্বাইয়ে থেকেও অনেকের কাছ থেকে রেস্তোরাঁর খাবার ও সেবার প্রশংসা শোনেন, যা তাঁকে নতুন নতুন খাবার যুক্ত করতে উৎসাহ দেয়। হায়দরাবাদি খাবারের পর ভবিষ্যতে রাজস্থানি মেনু যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে কণ্ঠের যত্ন নিতে গিয়ে তাঁকে অনেক প্রিয় খাবার ত্যাগ করতে হয়েছে। ছোট বয়সেই আইসক্রিম খাওয়া বন্ধ করতে হয় এবং দইও বাদ দিতে হয়েছে গলার স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে। তাঁর মতে, গান গাওয়া ও ইচ্ছেমতো খাওয়ার মধ্যে সবসময় সমন্বয় সম্ভব নয়।

সংগীতজীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো গানকে নিজের জীবনের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করতে রাজি নন। তবে আর ডি বর্মনের সঙ্গে করা কাজগুলোকে তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তাঁর মতে, ওই গানগুলো ছিল কারিগরি দিক থেকে কঠিন এবং ভিন্ন ধরনের কণ্ঠ প্রয়োগের দাবি রাখত, যা পরবর্তীতে অনেক শিল্পী অনুসরণ করেছেন। সংগীত ও সংস্কৃতির এই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাই আশা ভোঁসলেকে একজন জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com