বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নির্বাচনের আগে যত দ্রুত সম্ভব লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এই নির্দেশনা সকালেই প্রধান উপদেষ্টার যমুনার বাসভবনে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে দেওয়া হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, ওই কমিটির ১১৯তম সভা ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান উপদেষ্টা সভাপতিত্ব করেন এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত ১১টি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সভায় অংশগ্রহণ করেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমেদ।
প্রেস সচিব জানান, অনুমোদিত প্রস্তাবের মধ্যে সরকারি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাঠামো পুনর্গঠন সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে একত্রিত করে ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়’ পুনর্গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম (Ministry of Women and Children Affairs – MoWCA) অপরিবর্তিত রাখা হবে।
শফিকুল আলম আরও জানান, সরকারের রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি নতুন প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে।
অন্য এক প্রস্তাবে, পরিবেশগত, বৈশ্বিক ঐতিহ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে।
প্রেস সচিব আরও বলেন, নতুন চারটি থানা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। গাজীপুর জেলায় ‘পূর্বাচল উত্তর’, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ‘পূর্বাচল দক্ষিণ’, কক্সবাজার জেলায় ‘মাতারবাড়ী’ নামে তিনটি নতুন থানা স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নরসিংদী জেলার রায়পুরা ভেঙে আরও একটি নতুন থানা স্থাপনের এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় ‘ভূল্লী’ থানার বানান সংশোধনের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।
এই বৈঠকে প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দ্রুত বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এ সকল প্রস্তাব অনুমোদনের মাধ্যমে সরকারি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিয়েছেন।