রাজনীতি ডেস্ক
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি ও প্রভাব ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কনটেন্ট তৈরি ও আলোচনার মাত্রার ভিত্তিতে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান শীর্ষ ১০০ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণভিত্তিক ওয়েবসাইট সোশ্যাল ব্লেড প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় তাঁর অবস্থান ৬৩তম।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ফেসবুকে কনটেন্ট পোস্টের সংখ্যা, ব্যবহারকারীদের সম্পৃক্ততা এবং সামগ্রিক আলোচনার পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকায় তারেক রহমানের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় ওপরে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সোশ্যাল ব্লেডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বর্তমানে মোট লাইক সংখ্যা ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭৭৬। একই সঙ্গে তাঁর পেজে ‘টকিং অ্যাবাউট’ বা সক্রিয় এনগেজমেন্টের সংখ্যা রয়েছে ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭২। সর্বশেষ ১৪ দিনে এই পেজে প্রায় ৪৮ হাজার নতুন লাইক যুক্ত হয়েছে বলে পরিসংখ্যানে দেখা যায়।
এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সোশ্যাল ব্লেডের র্যাঙ্কিংয়ে তারেক রহমানের ফেসবুক পেজকে ‘এ++’ গ্রেড দেওয়া হয়েছে। সাধারণত লাইক বৃদ্ধি, পোস্টের গড় রিচ, ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া, শেয়ার এবং মন্তব্যের হারসহ বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে এই গ্রেড নির্ধারণ করা হয়।
সোশ্যাল ব্লেডের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি বা পেজকে ঘিরে ফেসবুকে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি হয়, শেয়ার হয় এবং আলোচনা হয়, তাদের ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই বিবেচনায় রাজনৈতিক নেতা, রাষ্ট্রপ্রধান, বিনোদন জগতের তারকা এবং অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও তালিকাভুক্ত হন। এ তালিকা মূলত কনটেন্টের জনপ্রিয়তা ও ব্যবহারকারীদের সম্পৃক্ততার পরিমাপ তুলে ধরে, কোনো রাজনৈতিক অবস্থান বা মতাদর্শের মূল্যায়ন এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
ডিজিটাল যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে রাজনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী রাজনীতি, দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা, সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি বৃদ্ধিতে এই মাধ্যম বড় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থানরত তারেক রহমানের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশেষ করে ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত বক্তব্য, বার্তা ও রাজনৈতিক কর্মসূচি সংক্রান্ত তথ্য প্রচারের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশি রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা বা র্যাঙ্কিং রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরাসরি প্রভাব ফেলে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। অনলাইন উপস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলেও রাজনৈতিক শক্তি, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা আলাদা বিবেচনার বিষয়।
সোশ্যাল ব্লেডের তালিকায় স্থান পাওয়া তারেক রহমানের ফেসবুক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক নেতার ডিজিটাল উপস্থিতির পরিসংখ্যানগত চিত্র তুলে ধরেছে। এটি বৈশ্বিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক কনটেন্টের প্রবণতা এবং প্রভাব বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।