1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা হাদি হত্যাকাণ্ডে ফয়সালের নির্দোষ দাবির ভিডিও, ডিবি বলছে—প্রমাণই শেষ কথা তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণ ‘অপ্রতিরোধ্য’: শি জিনপিং পুলিশের ‘ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ এ নিষিদ্ধ সংগঠনের ২ নেতা গ্রেপ্তার শাহরুখকে ‘গাদ্দার’ আখ্যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত বিশ্বে ২০২৬ সাল উদ্‌যাপন শুরু, প্রথম নতুন বছর বরণ করেছে কিরিবাতি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা বঞ্চিত করে ‘হত্যা” করা হয়েছে : নজরুল ইসলাম খানের দেশনেত্রীর বিদায়: কৃতজ্ঞতা জানালেন তারেক রহমান, জাতীয় ঐক্য ও মানবিকতার বার্তা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুরু

দেশনেত্রীর বিদায়: কৃতজ্ঞতা জানালেন তারেক রহমান, জাতীয় ঐক্য ও মানবিকতার বার্তা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

তারেক রহমানের বার্তা—“দেশের মানুষের জন্যই দেশনেত্রীর ঐতিহাসিক বিদায় যথাযথ মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে”—এ বক্তব্যে একদিকে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত শোক, অন্যদিকে জাতীয় সংহতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অন্তিম বিদায় আয়োজনে যুক্ত সব পক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান ঘিরে দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। রাজধানীতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে নিরাপত্তা, সমন্বয়, লজিস্টিক সহায়তা ও গণমাধ্যম কভারেজে একাধিক রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারেক রহমানের পোস্টে ওই দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক বিদায়’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, যেখানে শৃঙ্খলার পাশাপাশি মানবিকতা ও সহমর্মিতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পোস্টের শুরুতেই ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, জীবনের এক গভীর শোকের মুহূর্তে তিনি তাঁর মায়ের শেষ বিদায় দিতে পেরেছেন, যা দেশের মানুষের জন্য যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ আয়োজন কোনো প্রতিষ্ঠানের কারণে নয়, বরং মানুষ হিসেবে দেখানো যত্ন, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের কারণেই তা সম্ভব হয়েছে।

জানাজার দিন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তারেক রহমান বলেন, শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি শোকময় পরিবেশেও বাহিনীগুলোর সদস্যরা মানবিকতার অনন্য উদাহরণ দেখিয়েছেন। তাঁদের পেশাদারিত্ব ও সহমর্মিতার কারণে মানুষ নিরাপদে জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনকারী স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপি, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর নারী ও পুরুষ সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লাখো মানুষের সমাগম নিরাপদে ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্বিঘ্নে ফিরে যেতে পারা—এসবই বাহিনীগুলোর ধৈর্য, সততা ও দায়িত্ববোধের ফল।

জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা আলাদাভাবে স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, যাঁদের কাজ সাধারণত চোখে পড়ে না, সেই ডিজি ডিজিএফআই, ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এনএসআই) এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যদের সতর্কতা ও পেশাদার দায়িত্ব পালনের কারণে দিনটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ছিল। গোয়েন্দা সদস্যদের দায়িত্ববোধের কারণেই সম্ভাব্য ঝুঁকি প্রশমিত করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বহুমাত্রিক সমন্বয় কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের প্রধান, এবং স্টেট সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ডিজি, সেই সঙ্গে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, সংস্কৃতি, ধর্ম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, লজিস্টিক সহায়তা ও উপস্থিতি জাতীয় শোকের এই আয়োজনে স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত থেকে সমবেদনা জানাতে পেরেছেন—এটি খালেদা জিয়ার প্রতি দেশের সীমানার বাইরে থাকা গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধার প্রমাণ। এ উপস্থিতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সক্ষমতা ও সমন্বয় ব্যবস্থার ইতিবাচক প্রতিফলন হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

গণমাধ্যম কভারেজের চ্যালেঞ্জও তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত বিশাল জনসমুদ্রের ভেতর থেকে জানাজা ও দাফনের খবর, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমকর্মীরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার করেছেন, যা পুরো আয়োজনকে বৈশ্বিক পরিসরে পৌঁছে দিয়েছে। তাঁদের প্রচেষ্টা জাতীয় শোককে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণভাবে তুলে ধরেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সবশেষে জাতীয় শোকের সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ উপস্থিতি তাঁর পরিবারের জন্য অমূল্য মানসিক সমর্থন হিসেবে কাজ করেছে এবং জাতীয় শোকের মুহূর্তে শান্তি ও যত্ন বজায় রাখতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তারেক রহমানের এই কৃতজ্ঞতাবোধপূর্ণ বার্তা থেকে স্পষ্ট হয়, খালেদা জিয়ার অন্তিম বিদায় আয়োজনে প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারিত্ব, মানবিকতা ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় একযোগে কাজ করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিদায় ছিল না, বরং জাতীয় ঐক্য, সহমর্মিতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের সম্মিলিত প্রকাশ—যা তিনি ‘মানুষ হিসেবে’ পাওয়া সমর্থন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com