1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা হাদি হত্যাকাণ্ডে ফয়সালের নির্দোষ দাবির ভিডিও, ডিবি বলছে—প্রমাণই শেষ কথা তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণ ‘অপ্রতিরোধ্য’: শি জিনপিং পুলিশের ‘ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ এ নিষিদ্ধ সংগঠনের ২ নেতা গ্রেপ্তার শাহরুখকে ‘গাদ্দার’ আখ্যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত বিশ্বে ২০২৬ সাল উদ্‌যাপন শুরু, প্রথম নতুন বছর বরণ করেছে কিরিবাতি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা বঞ্চিত করে ‘হত্যা” করা হয়েছে : নজরুল ইসলাম খানের দেশনেত্রীর বিদায়: কৃতজ্ঞতা জানালেন তারেক রহমান, জাতীয় ঐক্য ও মানবিকতার বার্তা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুরু

তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণ ‘অপ্রতিরোধ্য’: শি জিনপিং

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের পুনরেকত্রীকরণ ‘সময়ের দাবি’ এবং তা ‘অপ্রতিরোধ্য’। দুই দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার এক দিন পর ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। ৩১ ডিসেম্বর বেইজিংয়ে দেয়া ওই ভাষণে শি জিনপিং বলেন, তাইওয়ান প্রণালীর উভয় পাড়ের মানুষ ‘রক্তের বন্ধন’ ও আত্মীয়তার সম্পর্কে আবদ্ধ এবং এই পুনরেকত্রীকরণকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। এর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়, যা চীনের সামরিক মহড়ার অন্যতম প্রেক্ষাপট বলে বিবেচিত হচ্ছে। তাইওয়ানকে চীন ‘বিচ্ছিন্ন প্রদেশ’ হিসেবে দেখে, অন্যদিকে ১৯৪৯ সাল থেকে তাইপে নিজেদের স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাইওয়ান ইস্যু ঘিরে এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চীন–তাইওয়ান সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে সংবেদনশীল ও জটিল হলেও ২০২৪–২০২৫ সালে এসে তা নতুন ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সামরিক–কৌশলগত অবস্থান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে পরিবর্তন এবং ইন্দো–প্যাসিফিক জোটভিত্তিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে এই সংকট বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

চীন ২৯ ডিসেম্বর ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করে, যা ৩০ ডিসেম্বর শেষ হয়। তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের স্থল, নৌ ও আকাশবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এ মহড়াকে বেইজিং ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রস্তুতি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। মহড়ায় যুদ্ধবিমান, নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট, গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থা এবং সমন্বিত কমান্ড কাঠামোর সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়। চীন দাবি করে, তাইওয়ান প্রণালীতে বহিরাগত শক্তির সামরিক উপস্থিতি ও অস্ত্র সরবরাহ আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্ট করছে এবং এই মহড়া তারই জবাব। তাইওয়ান প্রশাসন এ মহড়াকে ‘হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করলেও তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক সংঘাতে না জড়ানোর কৌশল অনুসরণ করছে।

শি জিনপিং তার নববর্ষের ভাষণে শুধু তাইওয়ান ইস্যু নয়, বৈশ্বিক অস্থিরতা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব ‘পরিবর্তন ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে’ যাচ্ছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধের আগুন এখনো জ্বলছে। শি বলেন, চীন সবসময় ‘ইতিহাসের সঠিক পাশে’ দাঁড়ায় এবং বিশ্ব শান্তি, উন্নয়ন ও মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সব দেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। যদিও তার ভাষণের বড় অংশে কূটনৈতিক সহযোগিতার আহ্বান ছিল, তবে তাইওয়ান প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।

তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা চীন–পশ্চিম সম্পর্কের অন্যতম বড় টানাপোড়েনের ক্ষেত্র। ওয়াশিংটন তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখলেও ‘তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট’–এর আওতায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে ও ২০২৫ সালের শুরুতে তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যা তাইপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত অন্যতম বড় প্যাকেজ। এতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, রাডার–গোয়েন্দা নজরদারি, সমুদ্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বেইজিং এই সিদ্ধান্তকে ‘উসকানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক।

চীনের ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক শক্তি জাপানও তাইওয়ান ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশি উচ্চকণ্ঠ। ২০২৫ সালে জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দায়িত্ব নেয়ার পর তাইওয়ান প্রসঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, তাইওয়ান ইস্যু যুদ্ধের দিকে গেলে জাপান তার নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় কৌশলগত সামরিক ভূমিকা নিতে পারে। জাপানের এমন বক্তব্যে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়, যা এশিয়ার বৃহৎ দুই অর্থনীতির মধ্যে রাজনৈতিক বৈরিতা আরও বাড়িয়ে তোলে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী জাপানের প্রতিরক্ষা নীতিতে যে সংযম ছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা ধীরে ধীরে আরও সক্রিয় নিরাপত্তা কৌশলের দিকে মোড় নিচ্ছে, যার প্রভাব তাইওয়ান প্রশ্নেও পড়ছে।

তাইওয়ানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান চীনকে তার আঞ্চলিক সামরিক কৌশল পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য করছে। বেইজিং তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে তার সামরিক প্রস্তুতি, ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন, আকাশ ও সমুদ্র নজরদারি, সাইবার নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল এবং কূটনৈতিক বার্তা—সব ক্ষেত্রে একসঙ্গে সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে, তাইওয়ান প্রণালীতে নৌবাহিনীর মহড়া, আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে (এডিআইজেড) যুদ্ধবিমান পাঠানো এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শন করে চীন নিয়মিত কৌশলগত সংকেত দিচ্ছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও তাইওয়ান প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খল, চিপ উৎপাদন, সমুদ্র বাণিজ্য রুট এবং ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে তাইওয়ানের ভূমিকা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। তাইওয়ান বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত চিপ নির্মাতা শিল্পের অন্যতম নিয়ন্ত্রক, যেখানে টিএসএমসি–সহ শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক সরবরাহে নেতৃত্ব দেয়। ফলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে প্রযুক্তি সরবরাহ, বৈশ্বিক বাজার, বাণিজ্য, শেয়ারবাজার এবং আঞ্চলিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের অভিঘাত আসতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোতে তাইওয়ান ইস্যু ক্রমেই বৃহৎ শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র একে ‘গণতন্ত্র ও নিরাপত্তা সহযোগিতার’ প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরলেও, চীন এটিকে ‘সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ ঐক্যের’ প্রশ্ন হিসেবে দেখে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য ইন্দো–প্যাসিফিক অংশীদার দেশগুলোও তাইওয়ানকে ঘিরে নিজেদের নিরাপত্তা নীতি সমন্বয় করছে, যদিও তাদের অবস্থান ও অংশগ্রহণের মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন।

বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান প্রশ্নে সামরিক সংঘাত তাৎক্ষণিকভাবে অনিবার্য না হলেও, কৌশলগত প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদে আরও বাড়তে পারে। কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার দরজা এখনো খোলা থাকলেও, বহুপাক্ষিক সামরিক জোট, অস্ত্র বিক্রি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতি, জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক বার্তা এবং সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের কারণে সংকটের তাপমাত্রা স্থায়ীভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়ে যেতে পারে।

চীন–তাইওয়ান সম্পর্ক ঘিরে সাম্প্রতিক বক্তব্য, সামরিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বৈশ্বিক রাজনীতির নতুন বছরের সূচনায় অন্যতম আলোচিত ভূরাজনৈতিক সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com