1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা হাদি হত্যাকাণ্ডে ফয়সালের নির্দোষ দাবির ভিডিও, ডিবি বলছে—প্রমাণই শেষ কথা তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণ ‘অপ্রতিরোধ্য’: শি জিনপিং পুলিশের ‘ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ এ নিষিদ্ধ সংগঠনের ২ নেতা গ্রেপ্তার শাহরুখকে ‘গাদ্দার’ আখ্যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত বিশ্বে ২০২৬ সাল উদ্‌যাপন শুরু, প্রথম নতুন বছর বরণ করেছে কিরিবাতি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা বঞ্চিত করে ‘হত্যা” করা হয়েছে : নজরুল ইসলাম খানের দেশনেত্রীর বিদায়: কৃতজ্ঞতা জানালেন তারেক রহমান, জাতীয় ঐক্য ও মানবিকতার বার্তা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুরু

শাহরুখকে ‘গাদ্দার’ আখ্যা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

খেলাধুলা ডেস্ক

আইপিএল মেগা নিলামে বাংলাদেশি পেসার ও ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি রুপিতে দলে ভেড়ানোর পর কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) মালিক ও বলিউড তারকা শাহরুখ খান ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোমের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তাকে সরাসরি ‘গাদ্দার’ ও ‘দেশদ্রোহী’ বলে মন্তব্য করেছেন সঙ্গীত সোম, যা ক্রিকেটাঙ্গন ছাড়িয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আইপিএল ২০২৫ মৌসুমকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত মেগা নিলাম ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। নিলামে দলগুলোর লক্ষ্য ছিল সেরা প্রতিভা ও কার্যকর কৌশলগত সমন্বয়ে স্কোয়াড গঠন করা। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ কোটি রুপি ব্যয়ে মুস্তাফিজকে নিজেদের দলে নেয় কেকেআর। নিলামে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হলেও, ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশে এটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

সঙ্গীত সোম তার বক্তব্যে শাহরুখ খানকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, ‘মুস্তাফিজুর রহমানের মতো খেলোয়াড়রা যদি ভারতে খেলতে আসেন, তবে তারা বিমানবন্দরের বাইরে পা রাখতে পারবেন না—এটা আমার প্রতিজ্ঞা। শাহরুখ খানের মতো গাদ্দারদের এই বার্তাটি ভালো করে বুঝে নেওয়া উচিত। উনি আদতে দেশদ্রোহিতা করছেন। অথচ এই দেশের মানুষের ভালোবাসার কারণেই আজ তিনি এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।’

বিজেপি নেতা আরও অভিযোগ করেন যে, শাহরুখ ভারতের অর্থ ব্যবহার করে ভারতের স্বার্থবিরোধী কাজ করছেন। তার কথায়, ‘আপনি এই দেশ থেকে টাকা কামাচ্ছেন, আর সেই টাকা দিয়েই দেশদ্রোহী আচরণ করছেন। কখনও পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা শোনা যায়, আবার কখনও মুস্তাফিজের মতো খেলোয়াড়দের কেনা হচ্ছে। এই দেশে এসব আর বরদাস্ত করা হবে না। দেশদ্রোহীদের জন্য এখানে কোনো জায়গা নেই।’

সঙ্গীত সোমের এই বক্তব্যে আইপিএল নিলামের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার মন্তব্যে ‘দেশদ্রোহী’ ও ‘গাদ্দার’ শব্দের ব্যবহার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, আইপিএল একটি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, যেখানে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড় অংশ নেন এবং প্রতিযোগিতার মান বৃদ্ধি করেন। ফলে খেলোয়াড় নির্বাচনকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করা ক্রিকেটীয় চেতনাবিরোধী।

আইপিএল নিলাম বোর্ড, ফ্র্যাঞ্চাইজি কৌশল ও ক্রিকেট ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। প্রতিটি দলই স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিভা সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড গঠনের চেষ্টা করে, যা লিগের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। মুস্তাফিজুর রহমান বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তার কাটার, বৈচিত্র্যময় স্লোয়ার ডেলিভারি এবং ডেথ ওভারে কার্যকারিতা তাকে নিলামে আকর্ষণীয় খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। নিলামে ৯ কোটি রুপি ব্যয়ে তার দলে অন্তর্ভুক্তি মূলত কেকেআরের বোলিং আক্রমণকে শক্তিশালী করার ক্রিকেটীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবেই বিবেচিত।

তবে, ক্রিকেটের এই বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—ক্রিকেট কি রাজনৈতিক চাপের বাইরে থাকতে পারবে? বিশ্লেষকদের মতে, আইপিএলের মতো বৈশ্বিক লিগে খেলোয়াড় নির্বাচন, দলীয় ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কৌশল নিয়ে আলোচনা থাকা স্বাভাবিক হলেও, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা দেশদ্রোহিতার মতো অভিযোগ ক্রিকেটীয় কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

শাহরুখ খান এর আগেও রাজনৈতিক বক্তব্য, সামাজিক অবস্থান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। তবে এবারের মন্তব্যে সরাসরি তাকে ‘গাদ্দার’ বলায় বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। কেকেআর বা শাহরুখ খানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ক্রিকেটাঙ্গনের একাংশ মনে করেন, ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন হওয়া উচিত মাঠের পারফরম্যান্স, কৌশল ও লিগের মানের ওপর ভিত্তি করে; কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়।

আইপিএল লিগের নীতিমালা অনুযায়ী, খেলোয়াড়রা যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে ভারতে আসেন, অনুশীলনে অংশ নেন এবং ম্যাচ খেলেন। অতীতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজসহ বহু দেশের খেলোয়াড় এই লিগে অংশ নিয়েছেন। ফলে কোনো খেলোয়াড়কে লক্ষ্য করে ‘বিমানবন্দরের বাইরে পা রাখতে না দেওয়ার’ মতো মন্তব্য আইনগত, কূটনৈতিক ও ক্রীড়া নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

রাজনৈতিক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তর্ক–বিতর্ক বাড়লেও, ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় অংশ এটিকে খেলাধুলার বাইরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মুস্তাফিজের মতো আন্তর্জাতিক তারকাকে দলে ভেড়ানো লিগের মান বৃদ্ধির অংশ; এটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ। মাঠে মুস্তাফিজ কেকেআরের হয়ে কেমন পারফর্ম করেন, সেটিই হবে এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত মূল্যায়ন।

আইপিএল নিলাম ও খেলোয়াড় নির্বাচন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নিজস্ব ক্রিকেটীয় পরিকল্পনার অংশ। ভবিষ্যতে লিগটি খেলাধুলার বৈশ্বিক চেতনা ও বাণিজ্যিক কাঠামোর বাইরে রাজনৈতিক চাপ কতটা মোকাবিলা করতে পারে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com