আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকদের বৈঠককে বাংলাদেশে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে তাদের নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যতিক্রমী বা বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়নি বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ভারতের হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক গোষ্ঠী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে থাকেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকদের বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মুখপাত্র জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের সাক্ষাৎকে আলাদা করে দেখার কোনো কারণ নেই। তাঁর ভাষায়, যাদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলা হচ্ছে, সেই বৈঠকও অন্যান্য যোগাযোগের মতোই স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি আরও জানান, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, আর দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার রাখতে সব পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়।
এর আগে ডা. শফিকুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে জানান, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর বাইপাস সার্জারির পর ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে তাঁর একটি বৈঠক হয়। তিনি উল্লেখ করেন, ওই বৈঠকটি ছিল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত জটিলতা কাটিয়ে ওঠার পরের সময়ের ঘটনা। একই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দাবি করেন, বৈঠকটি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা না করতে ভারতীয় কূটনীতিকরা তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় যদিও বৈঠকটির সময়, স্থান বা আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে এটিকে কূটনৈতিক রীতির অংশ হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। সাধারণত বিদেশি কূটনীতিকরা স্বাগতিক দেশের রাজনৈতিক দল, সরকার ও বিরোধী শক্তির পাশাপাশি নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন, যাতে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনমত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। বাণিজ্য, নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক সংযোগ—এই সব বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও যোগাযোগ রয়েছে। এ ধরনের প্রেক্ষাপটে ভারতের কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ নতুন কোনো ঘটনা নয়।
তবে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে, বাংলাদেশে দলটির রাজনৈতিক ভূমিকা ও অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে বিষয়টি বাড়তি মনোযোগ পায়। এ অবস্থায় ভারতের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যাখ্যা দিয়ে এটিকে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নয়াদিল্লির বক্তব্যের মাধ্যমে এটাই স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে যে, ভারতের অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে না। বরং এটি একটি রুটিন কূটনৈতিক কার্যক্রম, যার উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে অবহিত থাকা।
সব মিলিয়ে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে জামায়াত আমিরের সঙ্গে বৈঠককে ব্যতিক্রমী কোনো ঘটনা হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে। এতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের স্বাভাবিক কাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে।