1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে তিন অঞ্চলে নতুন অনুসন্ধান কূপ খনন শুরু হচ্ছে

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৮ বার দেখা হয়েছে

 

অর্থনীতি ডেস্ক

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো এবং শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলায় সরকার তিনটি নতুন অনুসন্ধান কূপ খননের বৃহৎ উদ্যোগ নিয়েছে। কুমিল্লার শ্রীকাইল, পাবনার মোবারকপুর ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকায় কূপ খননের জন্য ১ হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স), যা দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী ‘তিনটি অনুসন্ধান কূপ খনন (শ্রীকাইল ডিপ–১, মোবারকপুর ডিপ–১ এবং ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ–১)’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে ৯০৯ কোটি টাকা সরকারি ঋণ হিসেবে প্রদান করা হবে এবং বাপেক্সের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ২২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। দেশে বাপেক্সের মাধ্যমে ২০টি নতুন কূপ খননের বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ এই তিন কূপের খনন প্রক্রিয়া।

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নতুন অনুসন্ধান কূপ খনন না হওয়ায় দেশীয় উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আবাসিক ব্যবহারকারীদের জন্য আমদানি নির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন কূপ খনন কার্যক্রম শুরু হলে ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা জানান, নতুন অনুসন্ধান কূপগুলো খননের মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশলগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৫ বছরে নতুন কূপ খননের সংখ্যা কম থাকায় এবং বাপেক্সের সক্ষমতা যথাসময়ে বৃদ্ধি না পাওয়ায় দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মযজ্ঞ মন্থর হয়ে পড়েছিল। বর্তমান প্রকল্পে প্রথমবারের মতো বাপেক্সকে খনন ও পরবর্তী ধাপে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি কেনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যত অনুসন্ধান কাজে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সক্ষম করে তুলবে।

প্রকল্প নকশা অনুযায়ী শ্রীকাইল ডিপ–১ ও মোবারকপুর ডিপ–১ কূপ দুইটি ৬ হাজার মিটার গভীরতায় এবং ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ–১ কূপটি ৪ হাজার মিটার গভীরতায় খনন করা হবে। খনন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিগ মোবিলাইজেশন ও ডিমোবিলাইজেশন, রিগ ফাউন্ডেশন নির্মাণ, পরীক্ষা এবং সম্পন্নকরণ সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শ্রীকাইল ও মোবারকপুরের গভীর কূপ দুটির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরামর্শক সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গভীর কূপ খননে প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিশ্চিত হয়।

বাপেক্সের সংগৃহীত ভূতাত্ত্বিক তথ্য ও থ্রি-ডি সিসমিক জরিপ বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই তিনটি স্থানে কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তিন কাঠামোতে গ্যাসের উল্লেখযোগ্য মজুদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্যিক গ্যাস পাওয়া গেলে কূপগুলো থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে স্থাপিত গ্যাসের (জিআইআইপি) পরিমাণ হতে পারে প্রায় ১,৬৯৬ বিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে ১,০০০ বিসিএফেরও বেশি উত্তোলনযোগ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি দেশের মোট গ্যাস রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য সংযোজন করবে।

প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) প্রস্তাব পর্যালোচনাকালে সময়মতো বাস্তবায়ন, পেট্রোবাংলার সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং খনন প্রযুক্তির আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে। তারা মনে করে, অত্যাধুনিক খনন প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সাফল্যের হার বাড়বে এবং অনুসন্ধান ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে কমে আসবে।

জ্বালানি খাতের সাম্প্রতিক চাহিদা পরিস্থিতি বিবেচনায় নীতিনির্ধারকরা বলছেন, শিল্পায়নের প্রসার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে গ্যাসের ওপর চাপ বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন দেশীয় উৎস আবিষ্কার না হলে আমদানি নির্ভরতা আরও বাড়বে, যা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্প্রসারণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাপেক্স সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক টু-ডি ও থ্রি-ডি সিসমিক জরিপ সম্পন্ন করেছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাবনাময় কাঠামো চিহ্নিত করেছে। নতুন অনুমোদিত কূপগুলো সফলভাবে আবিষ্কার দিলে ভবিষ্যতে আরও অনুসন্ধান কার্যক্রমে উৎসাহ জোগাবে এবং দেশীয় জ্বালানি খাতের সক্ষমতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

একনেক অনুমোদনের ফলে এই খনন উদ্যোগ দেশের জ্বালানি খাতের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে গতি যোগ করবে। পাশাপাশি নতুন অনুসন্ধানে সফলতা অর্জিত হলে ভবিষ্যতে বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com