নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে অনুষ্ঠেয় গণভোটের সময়সূচি, ভোটগ্রহণ পদ্ধতি ও ভোটদানের বিস্তারিত প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে একটি পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার জারি করা এ পরিপত্রে গণভোটের প্রশ্ন, ভোটগ্রহণের সময়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও নিয়োগ, ব্যালট ও ব্যালট বাক্স ব্যবহারের নিয়ম, ভোট গণনা এবং ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত পরিপত্রে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে সরকার সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের মতামত যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে। গণভোট সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুচারুভাবে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন এই পরিপত্রের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, গণভোটে ভোটারদের সামনে একটি সামগ্রিক প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিয়ে মতামত দেবেন। প্রশ্নের অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠনের পদ্ধতি; আগামী জাতীয় সংসদকে দুই কক্ষবিশিষ্ট করা এবং দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠন; সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদনের বিধান; সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি; বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন; মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে উল্লেখিত মোট ৩০টি বিষয়ে ঐকমত্য বাস্তবায়ন; এবং জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়নের বিষয়।
গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ চলবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এবং এ সময়ের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।
রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য অভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যাঁদের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে, তাঁরা সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্রে গণভোটের দায়িত্বও পালন করবেন। একইভাবে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররা একযোগে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনা করবেন।
ভোটকেন্দ্র, ভোটার তালিকা ও ভোটারদের ক্ষেত্রেও একই কাঠামো অনুসরণ করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রই গণভোটের ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ভোটার তালিকাই গণভোটের ভোটার তালিকা হিসেবে গণ্য হবে এবং তালিকাভুক্ত সকল ভোটার গণভোটে ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন।
পরিপত্রে ব্যালট ও ব্যালট বাক্স ব্যবহারের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার ভিন্ন রঙের হবে। গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রঙের। উভয় ব্যালট একই স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলা হবে। পোস্টাল ভোটের ক্ষেত্রেও সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটে ভোট প্রদানের সুযোগ থাকবে এবং এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত পোস্টাল ব্যালট ফরম ব্যবহার করা হবে।
ভোটদানের প্রক্রিয়ায় ভোটার ব্যালট পেপার পাওয়ার পর নির্ধারিত গোপন কক্ষে গিয়ে গণভোটের ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ চিহ্নিত করবেন এবং ভাঁজ করে সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের সঙ্গে একই বাক্সে ফেলবেন। ভোটগ্রহণ শেষে প্রিজাইডিং অফিসার উপস্থিত এজেন্টদের সামনে ব্যালট বাক্স খুলে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করবেন এবং পৃথকভাবে গণনা সম্পন্ন করবেন।