নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আজ রোববারের বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর মেয়ে জাইমা রহমানের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি উপস্থাপন করা হবে। তফসিল ঘোষণার পর নতুন করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় এ বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, গুলশান এলাকার নির্ধারিত ওয়ার্ডে তারেক রহমান ও জাইমা রহমানের ভোটার নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ভোটার তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করতে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। সে কারণে রোববার কমিশনের সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।
ইসি সচিব জানান, ভোটার নিবন্ধনের অংশ হিসেবে নির্ধারিত ফরম পূরণ, ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ গ্রহণ, স্বাক্ষর ও অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী যোগ্য ও প্রাপ্তবয়স্ক যেকোনো নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।
তবে তফসিল ঘোষণার পর ভোটার তালিকায় নতুন সংযোজনের ক্ষেত্রে কমিশনের সম্মতি অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, “নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও কমিশনের অনুমোদন ছাড়া চূড়ান্তভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। সে কারণেই রোববার তারেক রহমান ও জাইমা রহমানের ভোটার হওয়ার নথি কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব জানান, নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে এনআইডি নম্বর তৈরি হতে পারে। তবে তথ্য সিস্টেমে আপলোডের পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট, স্বাক্ষর ও ফেস আইডির মিল যাচাইসহ একাধিক প্রযুক্তিগত ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এসব যাচাই-বাছাই শেষ হলে এনআইডি নম্বর চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।
কমিশনে নথি উপস্থাপনের পদ্ধতি সম্পর্কে আখতার আহমেদ বলেন, বিষয়টি পূর্ণ কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত। কমিশন চাইলে আনুষ্ঠানিক সভায় আলোচনা করে অথবা নথিভিত্তিক প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দিতে পারে। কোন পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা কমিশনই নির্ধারণ করবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত করতেই তফসিল ঘোষণার পর এ ধরনের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সব নাগরিকের ক্ষেত্রে একই আইন ও বিধি প্রযোজ্য বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর তিন মাস নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর তাঁর ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে তিনি ও তাঁর মেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন কি না এবং কবে তাদের এনআইডি চূড়ান্তভাবে ইস্যু করা হবে।