জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বাংলাদেশের সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আগামী বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে পুনরায় স্বাভাবিক লেনদেন শুরু করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, পাঁচটি ব্যাংকের একীভূত হওয়ার পর গঠিত এই ব্যাংকের আমানতকারীরা আগামীকাল থেকে তাদের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।
আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ব্যাংক হলিডে থাকায় কোনো লেনদেন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ব্যাংক স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রাথমিকভাবে, চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে প্রতিটি ব্যক্তিগত আমানতকারী সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যদি চলতি বা সঞ্চয়ী হিসাবের মধ্যে দুই লাখ টাকার বেশি জমা থাকে, তাহলে প্রতি তিন মাস অন্তর এক লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ সাত লাখ টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হবে। তবে কিডনি ডায়ালিসিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া, টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি আমানতকারীদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের ক্ষেত্রে, সাত লাখ টাকার বেশি অংশকে পাঁচ বছর মেয়াদী আমানতে রূপান্তর করা হবে। এ ধরনের আমানতে ব্যাংক বর্তমান রেটের তুলনায় এক শতাংশ কম হারে, অর্থাৎ ৩ শতাংশ মুনাফা প্রদান করবে। দুই বছরের মধ্যে আমানতকারীরা তাদের সম্পূর্ণ আমানত উত্তোলন করতে পারবেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুয়িটি, জয়েন্ট ভেঞ্চার ও বহুজাতিক কোম্পানি, রেজল্যুশনের আওতাভুক্ত ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি, এবং বিদেশি দূতাবাসগুলোর ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক লেনদেনের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের বাইরে, ব্যক্তি পর্যায়ের তিন মাস মেয়াদি আমানত স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও তিনবার নবায়নের পর উত্তোলন করা যাবে। এছাড়া ছয় মাস থেকে এক বছরের মেয়াদী আমানত দুবার নবায়নের পর উত্তোলনের সুযোগ প্রদান করা হবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকটি তার আমানতকারীদের জন্য স্বচ্ছ এবং নিয়মিত লেনদেনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। ব্যাংকের পুনঃখোলার ফলে দেশের আর্থিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং আমানতকারীদের বিশ্বাস পুনঃস্থাপন হবে।