জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বাসভবনে বুধবার পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকটি পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও টিভি ‘বড় ব্রেকথ্রু’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রয়াত হন খালেদা জিয়া। তার জানাজার নামাজ আজ (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি শোক প্রকাশের জন্য খালেদা জিয়ার বাসভবনে উপস্থিত হন। এসময় পাকিস্তানের স্পিকার এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বৈঠক করেন।
চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চারদিনব্যাপী সশস্ত্র সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করেছিল। ওই সংঘর্ষের পর থেকে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক হয়নি। খালেদা জিয়ার বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই সংক্ষিপ্ত বৈঠক প্রথমবারের মতো দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি সংযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাকিস্তানি সাংবাদিক আনাস মল্লিক মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে জানিয়েছেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে পাকিস্তানের স্পিকারের কাছে গিয়েছেন এবং সেখানে দু’জনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত আলাপ হয়েছে।
এই বৈঠকের পটভূমি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা, যেখানে ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। ওই হামলার দায় পাকিস্তানের ওপর চাপিয়ে ৭ মে ভারতের পক্ষ থেকে প্রথম মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়। এরপর পাকিস্তানও পাল্টা প্রতিরোধমূলক মিসাইল ও বিমান হামলা শুরু করে। চারদিনব্যাপী এই সংঘর্ষ চললেও তীব্রতা ব্যাপক ছিল। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার বাসভবনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত বৈঠক দুই দেশের মধ্যে শান্তিপ্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ন ইঙ্গিত বহন করে। যদিও এটি সরাসরি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক আলোচনার অংশ ছিল না, তবুও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এটি দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতার সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখছেন।
দুই দেশের কর্মকর্তাদের এই অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং এটি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব ফেলার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।