1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ আমিরাতের রাষ্ট্রপতির

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২৩ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। শোকবার্তায় তিনি খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শোকবার্তাটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় দপ্তরে পৌঁছায়।

বেগম খালেদা জিয়া, যিনি দুই মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ছিলেন, ২০২৫ সালের শেষ দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে শোকের আবহ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে শোকবার্তা আসতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বার্তা প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের শোকাবহ মুহূর্তে আমিরাত সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। বার্তায় তিনি বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাঁর শোকবার্তায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বনের ইঙ্গিত ছিল না; এটি ছিল সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সৌজন্য ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে প্রদত্ত বার্তা।

এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম এবং আমিরাতের উপরাষ্ট্রপতি, উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেনশিয়াল কোর্টের চেয়ারম্যান শেখ মানসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান পৃথক পৃথক শোকবার্তা পাঠান। এসব বার্তায় তাঁরা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের প্রতি সমবেদনা জানান। কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় শোকের ঘটনায় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে উদ্দেশ করে সমবেদনা জানানো আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রচলিত একটি কূটনৈতিক প্রথা, যা আমিরাতের শীর্ষ নেতারা অনুসরণ করেছেন।

শোকবার্তাগুলিতে খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং বাংলাদেশের জনগণের শোকাবহ মুহূর্তে সংহতি প্রকাশ করা হয়। বার্তায় বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের শ্রমবাজার সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, জ্বালানি, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক বন্ধনও পরোক্ষভাবে স্মরণ করা হয়। তবে কোনো বার্তাতেই ব্যবসায়িক প্রস্তাব, বিনিয়োগ আলোচনা বা চলমান প্রকল্প নিয়ে মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত ছিল না; সব বার্তা শোক, সংহতি ও কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার গন্তব্য। দেশটিতে প্রায় ১০ লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী বসবাস করেন, যাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন শোকবার্তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মানবিক ও রাষ্ট্রীয় ভিত্তিকে শক্তিশালী করে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পরিবেশকে ইতিবাচক রাখে। রাষ্ট্রীয় শোকের ঘটনায় বিদেশি নেতৃত্বের সংহতি প্রকাশকে সাধারণত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও কূটনৈতিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৭০–এর দশকের শেষ দিকে। ১৯৮১ সালে তাঁর স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালেও তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশ-আমিরাত সম্পর্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে ধারাবাহিক উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়। এ কারণেই তাঁর মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকেও শোকবার্তা এসেছে, যার মধ্যে আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা অন্যতম।

রাষ্ট্রীয় শোকবার্তা সাধারণত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জীবনাবসানে আন্তর্জাতিক সৌজন্যের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। এটি কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধকে জোরদার করে। আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্বের শোকবার্তাগুলিকে সে প্রেক্ষাপটেই বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারও কূটনৈতিক চ্যানেলে এসব বার্তার প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় শোকবার্তা কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি সংবেদনশীল ধারা হলেও এতে কৌশলগত সম্পর্ক, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার বার্তা নিহিত থাকে। তবে শোকবার্তায় তা সরাসরি উচ্চারিত না হলেও এর তাৎপর্য কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিসরে প্রভাব ফেলে।

আমিরাতের নেতৃত্বের এই বার্তাগুলি বাংলাদেশের জনগণ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রদত্ত সংহতির একটি আনুষ্ঠানিক প্রকাশ, যা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার ও কূটনৈতিক রীতি অনুসরণ করে প্রদান করা হয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com