জাতীয় ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ বর্তমানে সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, সবার সহযোগিতা থাকলে নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রবেশকালে সিইসি আপিলের বুথ পরিদর্শন করে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচনী পরিবেশ-পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
একই দিনে নির্বাচন কমিশনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন শুরু হয়েছে। আপিল প্রক্রিয়া আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে পর্যায়ক্রমে চলবে। শুনানি চলাকালীন সময় সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা তার প্রতিনিধি এবং আপিলকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে হবে।
সারাদেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে আপিল গ্রহণের জন্য পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছে। রংপুর অঞ্চলের আসন ১–৩৩-এর জন্য বুথ-১, রাজশাহী অঞ্চলের আসন ৩৪–৭২-এর জন্য বুথ-২, খুলনা অঞ্চলের আসন ৭৩–১০৮-এর জন্য বুথ-৩, বরিশাল অঞ্চলের আসন ১০৯–১২৯-এর জন্য বুথ-৪, ময়মনসিংহ অঞ্চলের আসন ১৩০–১৬৭-এর জন্য বুথ-৫, ঢাকা অঞ্চলের আসন ১৬৮–২০৮-এর জন্য বুথ-৬, ফরিদপুর অঞ্চলের আসন ২০৯–২২৩-এর জন্য বুথ-৭, সিলেট অঞ্চলের আসন ২২৪–২৪২-এর জন্য বুথ-৮, কুমিল্লা অঞ্চলের আসন ২৪৩–২৭৭-এর জন্য বুথ-৯ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের আসন ২৭৮–৩০০-এর জন্য বুথ-১০ স্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আপিল প্রক্রিয়াটি ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি ও আপিলের সংখ্যা বিবেচনায় সময়সূচি পরিবর্তন করা যেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আপিল প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কমিশন সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, আপিলকারীরা তাদের অভিযোগের প্রমাণসহ যথাযথ সময়ে উপস্থিত থাকলে প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ এবং ফলপ্রসূ হবে।
এবারের আপিল ব্যবস্থা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভোটারদের জন্য সুবিধাজনক ও সুসংগঠিত করার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়েছে। এতে ভোটার এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো সময়মতো সমাধান করা সম্ভব হবে, যা আসন্ন সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।