রাজনীতি ডেস্ক
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী আতাউর রহমান আতা রবিবার (৪ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। আতার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকরা এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।
ঘটনার সময় দুপুর দেড়টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছিল। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সময়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলে আতা তাৎক্ষণিকভাবে আপত্তি জানান। তিনি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং অনিয়ম সংক্রান্ত প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে চাইলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে থামান।
আতার অভিযোগ অনুযায়ী, কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় তিনি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নম্বর চাইলে বিএনপির সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে মানিকগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন যাদু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট লিটন এবং শিবালয় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা তাকে ধাক্কাধাক্কি ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আতাউর রহমান আতা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
বিপরীতভাবে, যুবদল নেতা সোহেল রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আতা সাহেবকে হেনস্তা করা হয়নি। তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করায় তাকে চলে যেতে বলা হয়েছিল। মানিকগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন যাদুও একই বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, আতাউর রহমান আতা তেমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন এবং তিনি বিএনপির প্রার্থীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এ কারণে প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে চলে যেতে বলা হয়েছিল।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, ঘটনার সময় তারা উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেন, আতাউর রহমান আতাকে হেনস্তা করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে তার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এ ঘটনায় নির্বাচনকালীন পরিবেশ ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নও উঠেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বা উত্তেজনা পরবর্তী সময়ে ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা সতর্ক থাকতে এবং সকল অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে এবারের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও নির্বাচনী আচরণ সংক্রান্ত ঘটনায় মতবিরোধ বেড়ে গেলে স্থানীয় ভোটপ্রক্রিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে।
সাংবাদিকদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ ও সংঘর্ষ প্রতিরোধে নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে নির্বাচনী পরিবেশের স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
এ পর্যন্ত আতাউর রহমান আতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন বা নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি। ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মনোনয়ন নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।