জাতীয় ডেস্ক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় নির্বাচন কমিশনে (ইসি) বৈঠক করবে, যেখানে দলটি প্রার্থিতা বাতিল, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ এবং সামগ্রিক নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবে। দলটির পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন যুগ্মমহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতা, যাদের মধ্যে রয়েছেন আরও একজন যুগ্মমহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।
দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরি জানিয়েছেন, বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দল সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেবে। দলটি বৈঠকে প্রার্থিতা বাতিলের কারণ, নির্বাচন পরিচালনার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রার্থিতা বাতিল সংক্রান্ত বিষয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ ভোটের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইসিতে বৈঠক করছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই প্রার্থিতা যাচাই, নির্বাচন ঘোষণার সময়সূচি এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও মতবিনিময় নিশ্চিতকরণকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অংশগ্রহণ মূলত এ ধরনের প্রার্থিতা বাতিল ও নির্বাচন পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং ভোটপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীভূত। দলটির নেতারা মনে করছেন, বৈঠকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রস্তাবনা নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরা হবে, যা নির্বাচনী পরিবেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এই বৈঠক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রার্থিতা বাতিল ও নির্বাচনী ন্যায্যতা নিয়ে সম্ভাব্য সমাধানের পথ নির্দেশ করতে পারে। ভোটারদের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অধিকার নিশ্চিত করতে এমন সংলাপের গুরুত্ব নির্বাচন কমিশনও স্বীকার করছে।
এছাড়া, বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক আচরণ এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ইসির কাছে তুলে ধরবেন। এটি দলের নির্বাচনী প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং জনগণের ভোটাধিকার সংক্রান্ত অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রকাশের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংক্ষিপ্তভাবে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইসিতে বৈঠক রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগ ও প্রস্তাবনা কমিশনের কাছে উপস্থাপন এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।