আইন আদালত ডেস্ক
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এই মামলায় অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতা আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে আসামিপক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অভিযোগ গঠন না করার পাশাপাশি অব্যাহতির জন্য তাদের আবেদন বিবেচনা করা হবে।
শুনানি ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
সকাল ১০টার পর পুলিশ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যানে তাদের ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করেছিল। এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করেছিল। সেই সময়ে ট্রাইব্যুনালে আসামিদের একটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনা হয়েছিল, যা প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়ার’ প্ররোচনা হিসেবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
আসামিপক্ষের শুনানি ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক ট্রাইব্যুনালে দাবি করেন যে বাজানো ফোনালাপটি সালমান ও আনিসুলের নয়। তিনি বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ভয়েস রেকর্ড যাচাইয়ের আবেদন জানান, তবে ট্রাইব্যুনাল এই আবেদনটি নথিভুক্ত রেখে খারিজ করে। এছাড়া মুনসুরুল হক ১০ ডিসেম্বর একটি আবেদন জমা দেন, যাতে তার মক্কেলদের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি পাওয়া যায়।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২২ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাঠ করেন। এর আগে ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল, যা আদালত গ্রহণ করে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ফোনালাপের পর ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
মঙ্গলবারের শুনানিতে আসামিপক্ষ তাদের আইনি ব্যাখ্যা উপস্থাপন করবে এবং অভিযোগ গঠন না করার পাশাপাশি অব্যাহতির জন্য আবেদন দাখিল করবে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত মামলার পরবর্তী পর্যায় ও তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের এই পদক্ষেপ মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তত্ত্বাবধান এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই মামলার ফলাফল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে, বিশেষ করে সরকার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারণের প্রেক্ষাপটে।