1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

মোস্তাফিজ ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়বে না অর্থনীতিতে: অর্থ উপদেষ্টা

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২৮ বার দেখা হয়েছে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কোনো প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কে পড়বে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপড়েন থাকলেও অর্থ–বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক গতিতেই চলবে।” তিনি আরও বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক কাঠামো, আমদানি–রপ্তানি চুক্তি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার চলমান প্রক্রিয়াগুলো রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ব্যাহত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হওয়ার আশঙ্কা নেই।

সম্প্রতি বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় আইপিএল থেকে আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যে আলোচনা–সমালোচনা তৈরি হয়েছে, সেটিকে ‘অপ্রত্যাশিত’ ও ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “মোস্তাফিজ একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন খেলোয়াড়। তাকে বিশেষ বিবেচনায় নয়, তার যোগ্যতার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তার খেলার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি অপ্রত্যাশিত ছিল, যা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না।”

মোস্তাফিজ ইস্যুতে রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এটি মূলত আবেগঘন একটি ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। দুই পক্ষই বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক যাতে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই সরকারের অবস্থান। “আমরা চাই না সম্পর্ক কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হোক,” যোগ করেন তিনি।

সভা–পরবর্তী ব্রিফিংয়ে উপস্থিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, “এটি একটি ক্রিয়া–প্রতিক্রিয়ার পরিস্থিতি হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। ভারত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সরকারের অবস্থান হলো, যেকোনো একতরফা সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে কূটনৈতিক ভাষায় যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পর্যায়ে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও, অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক কাঠামো আলাদা ধারায় পরিচালিত হয়, যার ওপর রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রত্যক্ষ প্রভাব নেই। “দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষই আগ্রহী,” তিনি উল্লেখ করেন।

উপদেষ্টা আরও জানান, ক্রিকেট–সম্পর্কিত প্রসঙ্গের পাশাপাশি ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক পরিসরে আলোচনা হয়েছে। তবে সরকারিভাবে এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি। “বিশ্বকাপের ভেন্যু নির্ধারণ আইসিসির এখতিয়ার। দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা দিয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ভেন্যু নির্ধারিত হয় না,” তিনি বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩–১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে বাংলাদেশ প্রধানত তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও ওষুধ রপ্তানি করে এবং বিপরীতে কাঁচামাল, তুলা, খাদ্যশস্য, প্রকৌশল–পণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য ও ভোক্তা–পণ্য আমদানি করে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক মূলত বাজার–চাহিদা, শুল্ক কাঠামো, আমদানি–রপ্তানি নীতি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যিক জোট–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক উত্তেজনা কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করলেও, প্রাতিষ্ঠানিক বাণিজ্যিক কাঠামো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, এলসি (লেটার অব ক্রেডিট), বন্দর–ব্যবস্থাপনা, স্থল–ট্রানজিট, শুল্ক অবকাঠামো এবং বাণিজ্য–সহায়ক নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। ফলে আকস্মিক রাজনৈতিক উত্তেজনা আমদানি–রপ্তানি প্রবাহকে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করতে পারে না।

সরকারি সূত্র জানায়, ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানিকৃত পণ্যের বড় অংশ আসে স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে। বেনাপোল, আখাউড়া, পেট্রাপোল, গেদে–দর্শনা ও হিলি–ঘোজাডাঙ্গার মতো স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৫০–৪০০টি পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রবাহের ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত বহন করে।

ব্রিফিংয়ে দুই উপদেষ্টাই জানান, রাজনৈতিক ও ক্রীড়া–সম্পর্কিত বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ, জ্বালানি–বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির বিষয়গুলো কৌশলগত গুরুত্বের কারণে আলাদা কাঠামোয় পরিচালিত হচ্ছে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ–ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বার্থভিত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ফলে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অর্থনৈতিক প্রবাহ থেমে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে দুই দেশের সম্পর্ক যাতে কৌশলগত স্থিতিশীলতা ধরে রাখে, সে বিষয়ে সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।”

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com