জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোট-সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ গ্রহণ, সমন্বয় এবং প্রাথমিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের ১০ জন কর্মকর্তাকে আঞ্চলিক পর্যায়ে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ৫ জানুয়ারি ইসি সচিবালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অঞ্চলভিত্তিক যোগাযোগ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে, যারা ভোট প্রস্তুতি, প্রার্থিতা, আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নির্বাচনী পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অনিয়ম ও কারিগরি সমস্যাসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের তথ্য ও অভিযোগ গ্রহণ করবেন এবং তা কমিশনে উপস্থাপনের জন্য প্রাথমিক সংকলন প্রস্তুত করবেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে খুলনা অঞ্চলের দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দীন আহমদ। মোবাইল নম্বর ০১৭১২৫৯১১৪৪ এবং ইমেইল khulna.region.complain@ecs.gov.bd-এর মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। ফরিদপুর অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হাসান ভূঞা, যার মোবাইল ০১৭১১৩৬৯৯৭৬ এবং ইমেইল faridpur.region.complain@ecs.gov.bd
।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার (মোবাইল : ০১৭১২০৪৪১৮৮, ইমেইল : mymensingh.region.complain@ecs.gov.bd
)। বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী সচিব মোহাম্মদ আল-মামুন (মোবাইল : ০১৯৩৭৬৩৮০৩৫, ইমেইল : barishal.region.complain@ecs.gov.bd
)। সিলেট অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী পরিচালক মিসবাহ উদ্দীন আহমেদ (মোবাইল : ০১৭১৭২৪৪০৭৮, ইমেইল : sylhet.region.complain@ecs.gov.bd
)।
ঢাকা অঞ্চলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক জাকির মাহমুদ (মোবাইল : ০১৭১৮৫৬৪৬৩৫, ইমেইল : dhaka.region.complain@ecs.gov.bd
)। রংপুর অঞ্চলের যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী সচিব সৈয়দ গোলাম রাশেদ (মোবাইল : ০১৮১৮২৬৮০৮২, ইমেইল : rangpur.region.complain@ecs.gov.bd
)।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেন (মোবাইল : ০১৭১৭৪০৫৫৯৪, ইমেইল : chattogram.region.complain@ecs.gov.bd
)। রাজশাহী অঞ্চলের যোগাযোগ কর্মকর্তা সহকারী সচিব মো. মমতাজ-আল-শিবলী (মোবাইল : ০১৬৭৬৩২৪৬০৯, ইমেইল : rajshahi.region.complain@ecs.gov.bd
)। কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো: ইকরামুল হাসান (মোবাইল : ০১৭৯৭১৮৫১২৩, ইমেইল : cumilla.region.complain@ecs.gov.bd
)।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়েও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য পাঠানোর জন্য দুটি পৃথক ইমেইল ঠিকানা চালু রাখা হয়েছে—centralcord.complain@ecs.gov.bd
এবং mscentralcord.complain@ecs.gov.bd
। দেশজুড়ে যে কোনো সংসদীয় আসন, নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ, মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম, ভোটার নিবন্ধন, স্মার্ট এনআইডি বিতরণ, কেন্দ্র প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, নির্বাচনী সরঞ্জাম সরবরাহ, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার, গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের কাজের পরিবেশ, ফলাফল সংকলন এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন-সংক্রান্ত অভিযোগ এসব ঠিকানায় পাঠানো যাবে।
এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ‘নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’ গঠন করে কমিশন। ওই কমিটিগুলোকে প্রার্থী, রাজনৈতিক দল, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, নির্বাচনী এজেন্ট, পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন, নির্বাচনী অপরাধ, অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার, হুমকি-ধমকি, ঘৃণা-উসকানি, ভোটারদের ওপর চাপ প্রয়োগ, জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রচার, আর্থিক অনিয়ম, প্রচারণায় বিধিবহির্ভূত ব্যয়, ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা, ব্যালট বা ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ, ডিজিটাল বা সাইবার মাধ্যমে অপপ্রচার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করার অভিযোগ তদন্ত ও শুনানির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
কমিশন জানায়, এসব বিচারিক কমিটির কাছেও সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের নাগরিক, প্রার্থী, রাজনৈতিক দল বা নির্বাচনী অংশীজন সরাসরি অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। অভিযোগ জমা, গ্রহণ, প্রাথমিক পর্যালোচনা, নথিভুক্তি, তদন্ত অনুরোধ, শুনানি প্রক্রিয়ায় সহায়তা, কমিশনে প্রতিবেদন প্রেরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ সমন্বয়ের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ১০ কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, অঞ্চলভিত্তিক যোগাযোগ কর্মকর্তা নিয়োগের ফলে অভিযোগ দাখিল ও তথ্য সংগ্রহে গতি বাড়বে এবং মাঠ পর্যায়ের অনিয়ম বা সমস্যার তথ্য দ্রুত কমিশনের নজরে আনা সম্ভব হবে। নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি বাস্তবায়ন, আইন প্রয়োগে সমন্বয়, এবং অভিযোগের প্রাথমিক শ্রেণিকরণে এসব কর্মকর্তার ভূমিকা তদারকির আওতায় রাখা হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।