1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

সরকার নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ১.৮ লাখ টন ডিজেল আমদানি করবে, ব্যয় ১,৪৬২ কোটি টাকা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২১ বার দেখা হয়েছে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে বাংলাদেশ সরকার ১ লাখ ৮০ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করবে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব ৬ জানুয়ারি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। ব্যয়ের অর্থায়নের একটি অংশ বহন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং অবশিষ্ট অর্থ সংগ্রহ করা হবে ব্যাংকঋণের মাধ্যমে।

৬ জানুয়ারি রাজধানীর সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুমোদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মেয়াদে এনআরএল থেকে পর্যায়ক্রমে ডিজেল সরবরাহ গ্রহণ করা হবে।

সরকারি সিদ্ধান্তটি ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির নীতিগত অনুমোদনের ধারাবাহিকতা। ওই বৈঠকে ২০২৬ সালের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দর-কষাকষি, প্রিমিয়াম নির্ধারণ, পরিবহন ব্যয় মূল্যায়ন এবং অর্থায়ন কাঠামো চূড়ান্তকরণের মধ্য দিয়ে এবার ক্রয় প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেল।

ক্রয় কমিটির নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ১১ কোটি ৯১ লাখ ৩৩ হাজার ২১৬ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৪৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এই আমদানিতে প্রতি ব্যারেল ডিজেলের প্রিমিয়াম ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫০ ডলার এবং ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৩ দশমিক ২২ ডলার। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ডিজেলের ভিত্তিমূল্য আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তনশীল থাকবে, ফলে প্রকৃত ক্রয়মূল্য সরবরাহ গ্রহণের সময়কার আন্তর্জাতিক মূল্যসূচকের ভিত্তিতে সমন্বয় করা হবে।

এনআরএলের সঙ্গে ডিজেল আমদানির কার্যক্রম ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে, যা ২০১১–১২ সালের দিকে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতিগত কাঠামোর ভিত্তিতে প্রণীত এবং ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী সময়ে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বৈঠক শেষে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশ নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহের নিশ্চয়তা পাচ্ছে, যা বিশেষত উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন, রেল ও সেচ কার্যক্রম, শিল্প পরিবহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাকআপ জ্বালানি চাহিদা পূরণে কৌশলগত ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি কাঠামোতে এনআরএল একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত, বিশেষত পাইপলাইনভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থার কারণে। ভারতের আসাম রাজ্যের নুমালিগড়ে অবস্থিত এনআরএলের পরিশোধনাগার থেকে উৎপাদিত ডিজেল স্থলপথে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর বিপিসি ডিপোতে পৌঁছায়। ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল পরিবহনের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের মার্চে, যদিও পাইপলাইনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। পাইপলাইনভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা চালুর ফলে পরিবহন ব্যয়, সিস্টেম লস, সময়ক্ষেপণ এবং ট্যাংকারভিত্তিক ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিপিসি ও মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই পাইপলাইন পরিবহন ব্যবস্থার ফলে প্রতি লিটার ডিজেল পরিবহনে ব্যয় সাশ্রয় ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যা সামগ্রিক আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এনআরএল থেকে ডিজেল আমদানির পরিমাণ গত বছরেও অনুমোদিত হয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যেখানে প্রিমিয়াম মূল্য ছিল ৫ দশমিক ৫০ ডলার, যা চলতি অনুমোদনেও অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি আমদানিতে পরিমাণ কম থাকলেও প্রিমিয়াম অপরিবর্তিত থাকার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মূল্য কাঠামোর স্থিতিশীলতার নির্দেশক বলে মনে করেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা।

এনআরএলের ব্যবসায়িক সক্ষমতাও আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আলোচনায় থাকে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির টার্নওভার ছিল প্রায় ২৫ হাজার ১৪৭ কোটি ভারতীয় রুপি সমমূল্যের টাকা। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকায় একটি লিয়াজোঁ অফিস পরিচালনা করছে, যার কাজ মূলত চুক্তি সমন্বয়, লজিস্টিক পরিকল্পনা, বিপিসি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ, ডেলিভারি শিডিউল নির্ধারণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা বিনিময়।

তবে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে। ধনশিরি নদীতে অপরিশোধিত পরিশোধন বর্জ্য নিষ্কাশনের অভিযোগে ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) ২০২৫ সালে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন এবং এ বিষয়ে এনআরএল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত আইনি শুনানিতে অংশ নিচ্ছে। যদিও পরিবেশ সংক্রান্ত মামলাটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিচারব্যবস্থার অংশ, বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি চুক্তি পরিচালনায় এর সরাসরি প্রভাব নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশের ডিজেল আমদানি নির্ভরতা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়, বৈশ্বিক মূল্য অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে মূল্যায়িত হচ্ছে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ডিজেল চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সেচ, কৃষি পরিবহন, রেল, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাকআপ এবং শিল্প পরিবহন খাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে, দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি ও পাইপলাইনভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা মিলিয়ে এই আমদানি কার্যক্রম বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলসহ সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com