জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তিতুমীর হোসেন সোহেলসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের লাউড়া নাজিরপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রথমে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বিল মাকসা নদী থেকে মাছ ধরার পর একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে পরিবহন করার সময় ছাত্রদল সভাপতি তিতুমীর হোসেন সোহেল এবং আরও কয়েকজন ট্রলার আটক করেন। এই ঘটনায় তৎক্ষণাৎ এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান।
হামলায় তিতুমীর হোসেন সোহেল গুরুতর আহত হন। তার সঙ্গে থাকা তাকবীর (২৮), মীর রাফি (২৩) ও রিমন (৩৫) নামের আরও তিনজনও আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের চিৎকারে ঘটনাস্থলে পৌঁছান, যা দেখে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যান। আহতরা অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং জলমহাল দখলের বিরোধিতা করাকে কেন্দ্র করে তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।
আহত তিতুমীর হোসেন সোহেল জানান, জলমহাল সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। অপরদিকে, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন বলেন, আগস্টের পর থেকে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে এবং সেই বাহিনী দিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেব খান জানান, ঘটনার বিষয়ে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ থানায় পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ঘটনাস্থল ও আহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে জলমহাল ও মাছ আহরণকে কেন্দ্র করে উপজেলা এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব সংঘর্ষের কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা জ্ঞাপন ও প্রশাসনের সক্রিয় নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, জলমহাল সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের এবং এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ এই ধরনের সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রায়ই উস্কানিমূলক ভূমিকা রাখে। প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় নেতা ও কমিউনিটি সদস্যদের সংলাপ এবং সক্রিয় মনিটরিং স্থানীয় উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে।