জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাই সংক্রান্ত রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। আপিল গ্রহণের শেষ দিন শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) একদিনেই ১৭৬টি আপিল দায়ের করা হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে প্রার্থীতা বাতিল ও গ্রহণ—উভয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আপিল করা হয়েছে। আপিল গ্রহণ শেষে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল শুনানি শুরু হচ্ছে। এই শুনানি চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিটি আপিল নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
শুনানি সূচি অনুযায়ী, শনিবার প্রথম দিনে ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (১১ জানুয়ারি) ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল, সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর আপিল এবং মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি গ্রহণ করা হবে। অবশিষ্ট আপিলগুলোর শুনানির তারিখ ও সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এর আগে আপিল গ্রহণের বিভিন্ন দিনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) চতুর্থ দিনে ১৭৪টি আপিল দায়ের করা হয়। বুধবার জমা পড়ে ১৩১টি এবং মঙ্গলবার ১২২টি আপিল আবেদন। এছাড়া গত সোমবার প্রথম দিনে মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৪১টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি আপিল দায়ের করা হয়। সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ৬৪৫টি আপিল নির্বাচন কমিশনে জমা পড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি আপিল আইন ও বিধি অনুযায়ী পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা হবে। শুনানিতে প্রার্থী বা তাঁদের আইনগত প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকেও ব্যাখ্যা নেওয়া হতে পারে। আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্বাচন আইন, আচরণবিধি এবং মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত বিধিমালাকে প্রধান বিবেচনায় রাখা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে ৩০০টি সংসদীয় আসনে দাখিল করা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র যাচাই করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে বিভিন্ন কারণে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ ঋণখেলাপি, কেউ দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া, কারও কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকা কিংবা হলফনামায় তথ্যগত অসংগতির মতো কারণে প্রার্থীতা হারান। আবার কোথাও কোথাও একাধিক মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণ না করার অভিযোগও ওঠে। এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই অধিকাংশ আপিল করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আপিল শুনানির মাধ্যমে প্রকৃত প্রার্থীরা তাদের অবস্থান ব্যাখ্যার সুযোগ পাবেন এবং যেসব ক্ষেত্রে ভুল বা অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো সংশোধনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনি গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করাও এই আপিল ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্তভাবে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দসহ পরবর্তী নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, নির্ধারিত সময়সূচির মধ্যেই সব আপিল নিষ্পত্তি করে নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলো নির্বিঘ্নে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।