1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
তারেক রহমানের সিলেট সফর ও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু ঢাকাসহ আশপাশে তাপমাত্রা সামান্য কম, আংশিক মেঘলা আকাশের সম্ভাবনা মাহফুজ আলম নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগে খোলামেলা আলোচনার ঘোষণা নতুন পে স্কেল নিয়ে কর্মকর্তাদের অনিশ্চয়তা বেড়েছে মাদরাসাগুলোতে ভোটকেন্দ্র হিসেবে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ ঝালকাঠি-১ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্ম ব্যবহার অভিযোগে জামায়াত প্রার্থীর নোটিশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের অগ্রগতি সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে আয়, সম্পদ ও মামলার তথ্য প্রকাশ নতুন চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজের ইঙ্গিত দিলেন বিদ্যা সিনহা মিম ও শরিফুল রাজ নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিকী অনশন কর্মসূচি ঘোষণা

কুড়িগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসাধু কার্যক্রমের প্রস্তুতিকালে ১১ জন আটক

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

আইন আদালত ডেস্ক

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে উত্তর সরবরাহের প্রস্তুতিকালে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন ডিভাইসসহ একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থীসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছয় সদস্যকে রাজশাহী মহানগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। পৃথক এসব অভিযানে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের চেষ্টার একটি বিস্তৃত চিত্র সামনে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে নাগেশ্বরী উপজেলার শহরের একটি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রথম দফায় ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে একই ঘটনার সূত্র ধরে আরও পাঁচজনকে আটক করা হলে মোট ১১ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের অনুলিপি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রক্সি পরীক্ষার্থী রয়েছেন, যিনি মূল পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে পুলিশের দাবি।

নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরীক্ষার্থীদের কাছে অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নের উত্তর সরবরাহের পরিকল্পনা করছিল। উদ্ধার করা ডিভাইসগুলো প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ ও তথ্য আদান–প্রদানের কাজে ব্যবহারের প্রস্তুতিতে ছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মিনারুল ইসলাম নামে পরিচিত। তিনি নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। এছাড়া আসন্ন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী—এমন তথ্যও পুলিশের কাছে রয়েছে। এ ছাড়া আটক অন্যরা হলেন নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের নাখারগঞ্জ গ্রামের আব্দুল লতিফ, খামার নকুলা গ্রামের শাহজামাল, কাজীপাড়া গ্রামের বাবু ইসলাম, বাগডাঙ্গা গ্রামের জান্নাতুন নাইম, ফুলবাড়ী উপজেলার বোয়ালভির গ্রামের আরিফুজ্জামান সিদ্দিকি, মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাঁশখালী গ্রামের হিমেল মাহমুদ, রাজৈর থানার টেকরহাট গ্রামের চামেলী আক্তার, আরাজিকোমরপুর গ্রামের বেলাল হোসেন এবং চরদামাল গ্রামের আনেয়ার হোসেন। তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেটের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর মালোপাড়া এলাকায় একটি কমিউনিটি ব্যাংকের এটিএম বুথ ও উপশহরের সৃষ্টি স্কুলের সামনে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের লক্ষ্য করে প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতিমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

আরএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার মো. আল মামুন, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মাহবুব আলম, নওগাঁ জেলার আনজুয়ারা খাতুন, নওগাঁ সদর উপজেলার জুলফিকার আলী, আত্রাই উপজেলার মো. নয়ন আলী এবং মান্দা উপজেলার রায়হান কবির। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষরযুক্ত ফাঁকা স্ট্যাম্প, ব্যাংকের ফাঁকা চেক, প্রবেশপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার গাজীউর রহমান জানান, উদ্ধার করা আলামতগুলো প্রশ্নফাঁস ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পরীক্ষায় অনিয়মের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া। এ ধরনের পরীক্ষায় অনিয়ম রোধে নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক এই দুই অভিযানের মাধ্যমে পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com