অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে চাপ প্রয়োগ করলেও সরকার বা পে কমিশন থেকে কোনো চূড়ান্ত সাড়া মেলেনি। শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না।
এই ঘোষণার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভর্নরের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনা চলছে। কর্মকর্তারা নতুন পে-স্কেলের বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে শনিবার অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, গভর্নরের দেওয়া বক্তব্য তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, নবম পে স্কেল নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে কিনা বা সরকার কোনো কাঠামো তৈরি করে দেবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, পে-কমিশন ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে এবং পে-স্কেল প্রণয়নের কাজ চলছে।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে নাকি কেবল কাঠামো তৈরি করে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য তিনি নিজে জানাবেন। এ অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো তাদের বৈষম্যমুক্ত ও সমন্বিত বেতন কাঠামোর জন্য অপেক্ষা করছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো মূলত পূর্ববর্তী পে-স্কেলের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত। দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাবি জানিয়ে আসছেন যে, বর্তমান বেতন কাঠামো অনুন্নত এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই প্রেক্ষাপটে নবম পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি খাতে কর্মজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই বলে সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। বেতন কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন না হলে বর্তমান কর্মচারীরা আর্থিক চাপের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হবেন, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে।
সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, কর্মচারীদের পেশাগত উৎকর্ষ এবং জীবনমানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। পে কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে কাঠামো প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করলে, অন্তর্বর্তী সরকারের পরবর্তী প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করতে পারবে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীরা এখনও তাদের দাবি পূরণের জন্য অপেক্ষা করছেন, আর সরকার ও পে কমিশনের কার্যক্রমে তাদের নজর রাখা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনের আগে পে-স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হলেও, সরকারি কর্মকর্তারা পে-কমিশনের কাজের অগ্রগতি মনিটর করছেন এবং প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হলে তা কার্যকর হওয়ার প্রতীক্ষায় রয়েছেন।

