আইন আদালত ডেস্ক
সাভারের আশুলিয়ায় আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত পুলিশের অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে আশুলিয়া থানার এক উপপরিদর্শকসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতের দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের গোমাইল বাংলাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম এবং পুলিশের গাড়িচালক রবিন। ঘটনার পর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে আশুলিয়া থানার একটি দল নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবে একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বাংলাবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছিল। অভিযানের সময় পুলিশ দলটি যখন নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে আসামিকে আটক করার চেষ্টা করে, তখন সেখানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় ধারালো ও ভোঁতা অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার একপর্যায়ে উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। এ সময় পুলিশি গাড়ির চালক রবিনও আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিলেও হামলার তীব্রতায় আহত দুই সদস্য ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। পরে অন্যান্য পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত জুনিয়র অফিসার মো. রফিক জানান, শুক্রবার রাতে আহত অবস্থায় দুই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলামকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপর আহত পুলিশ সদস্য রবিন জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলামকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, রাতে পুলিশের একটি টিম আসামি ধরতে অভিযান চালানোর সময় হামলার শিকার হয়। হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তবে ঘটনার সময় অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ওই আসামিকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
ওসি আরও জানান, ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, আসামি গ্রেপ্তারের মতো নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের ওপর এ ধরনের হামলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। তবে এ ঘটনায় পুলিশের কার্যক্রম ব্যাহত হবে না এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর গোমাইল বাংলাবাজার এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি ও তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে হামলার প্রকৃত কারণ, জড়িতদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

