1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ বিএনপি মহাসচিব: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক চক্রান্তে লিপ্ত বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলবে না, বিকল্প দল নির্ধারণ আইসিসির দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডিএমডিসি শোকজ করেছে ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১৩তম সাধারণ নির্বাচনে ভোটারের মনোনয়ন, বিএনপি ও জামায়াতের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপে খেলতে অযৌক্তিক শর্ত মানবে না: ড. আসিফ নজরুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ দুই বছরের আগে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না: ডিএনসিসির নতুন নির্দেশনা আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ও রন্ধনসংস্কৃতির বহুমাত্রিক পথচলা

শাহজালাল বিমানবন্দরে আইএলএস ক্যাটাগরি-২ অচল, ঘন কুয়াশায় ফ্লাইট ডাইভার্ট বাড়ল

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২৯ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ ডেস্ক

ঢাকা: ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে নিরাপদভাবে পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস)-এর ক্যাটাগরি-২ সুবিধা বর্তমানে কার্যকর নয়। এর ফলে বিমানবন্দরটি শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার সময় নিরাপদ অবতরণে বাধ্য হচ্ছে না এবং প্রতিদিন অন্তত ৫ থেকে ৮টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য ভোগান্তি সৃষ্টি করছে এবং এয়ারলাইনসগুলোর খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান অবতরণের সময় রানওয়ের হাই অ্যান্টেনা অ্যাপ্রোচ লাইট ভেঙে যায়। এর ফলে শতকরা ৯৫ ভাগ এপ্রোচ লাইট কার্যকর না থাকায় আইএলএস ক্যাটাগরি-২ থেকে ক্যাটাগরি-১-এ নেমে এসেছে। বর্তমানে সাপ্লিমেন্ট অ্যাপ্রোচ লাইটের সংখ্যা ৭৯ থেকে ৮৬টির মধ্যে রয়েছে, রানওয়ের ভিজিবিলিটি রেঞ্জ প্রায় ৭০০ মিটার। বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাটাগরি-২-এ ফিরে যেতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে।

আইএলএস ক্যাটাগরি-২ সুবিধা বজায় রাখতে হলে একাধিক প্রযুক্তিগত শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে মূলত তিনটি প্যারামিটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: আইএলএস যন্ত্রপাতির মান, রানওয়ের সম্পূর্ণ লাইটিং সিস্টেমের কার্যকারিতা—অ্যাপ্রোচ লাইট, সেন্টারলাইন লাইট ও এজ লাইটসহ ৯৫ শতাংশ কার্যকর থাকা, এবং আবহাওয়া নির্ধারণকারী যন্ত্রপাতির যথাযথ কার্যকারিতা। বর্তমানে দ্বিতীয়টি পূরণ হচ্ছে না, যা সিস্টেমের কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

প্রতি বছর শীত মৌসুমে শাহজালাল বিমানবন্দরে ঘন কুয়াশার কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় সমস্যা দেখা দেয়। এ বছরও পরিস্থিতি একই রকম, ফলে বিমান চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঘন কুয়াশার কারণে রানওয়ের দৃশ্যমানতা ন্যূনতম নিরাপদ সীমার নিচে নেমে গেছে। শেষ দুই সপ্তাহে অন্তত ৫০টির বেশি ফ্লাইট বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে, যার মধ্যে কলকাতা, সিলেট ও চট্টগ্রাম উল্লেখযোগ্য।

আইএলএস ক্যাটাগরি-২ না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে রাত ও ভোরের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীরা দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ডাইভার্ট হওয়া ফ্লাইটে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ, ক্রুদের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস এবং পরবর্তী ফ্লাইট পরিচালনায় জটিলতা দেখা দেয়। বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস বাংলা জানিয়েছে, ঘন কুয়াশায় পাইলটরা রানওয়ে সঠিকভাবে দেখতে না পারায় ফ্লাইটগুলো চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও কলকাতা অবতরণে বাধ্য হচ্ছে।

আইএলএস হলো এমন একটি সিস্টেম, যার মাধ্যমে পাইলটরা কম দৃশ্যমানতাতেও নিরাপদভাবে রানওয়ে অবস্থান শনাক্ত করতে পারেন। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) অনুযায়ী, ক্যাটাগরি-১ ব্যবস্থায় ন্যূনতম ১০০০ মিটার দৃশ্যমানতা প্রয়োজন, ক্যাটাগরি-২-এ ৫০০ থেকে ৭৫০ মিটার, আর ক্যাটাগরি-৩-এ প্রায় শূন্য দৃশ্যমানতাতেও অবতরণ সম্ভব। বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দর কেবল ক্যাটাগরি-১ সুবিধার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন জানান, রানওয়ের আইএলএস লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঘন কুয়াশায় কিছু ফ্লাইট ডাইভার্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, সম্ভব হলে দ্রুত সংস্কার করে আইএলএস ক্যাটাগরি-২-এ ফিরিয়ে আনা হবে। তবে ক্যাটাগরি-৩ সুবিধা কার্যকর করা সম্ভব নয়, কারণ রানওয়ের উত্তরের অংশে উচ্চ বিল্ডিং রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউসার মাহমুদ জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত লাইট পুনঃস্থাপন করা হবে। বিমানবন্দরের অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত মনিটরিং ছাড়া ক্যাটাগরি-২ সুবিধা ধরে রাখা কঠিন। অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই লাইটিং সিস্টেমের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা ও সংস্কার সম্পন্ন করলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।

এ সময় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, এয়ারলাইনস ও সংশ্লিষ্ট দফতরের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ঘন কুয়াশার মৌসুমে ফ্লাইট পরিচালনা এবং যাত্রীদের নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 deshmediabd.com