আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর দুটি পৃথক অভিযানে ভারতের সহায়তাপুষ্ট ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। নিহতরা 모두 ফিতনা আল-খারিজের সদস্য। শনিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও কুর্রাম জেলায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির তথ্য পাওয়ার পর উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলায় অভিযান চালায়। এই অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের তীব্র গোলাবিনিময় ঘটে, যার ফলে ছয় সন্ত্রাসী নিহত হয়।
কুর্রাম জেলায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে পাঁচ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। আইএসপিআর জানিয়েছে, নিহতরা ভারতের সহায়তাপুষ্ট খারিজগোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও অন্যান্য সহিংস ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
ফিতনা আল-খারিজ একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সক্রিয়। সম্প্রতি এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানগুলোর লক্ষ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা এবং স্থানীয় জনগণকে সন্ত্রাসী হুমকি থেকে রক্ষা করা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরবর্তী তদন্তে ব্যবহার করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিরাপত্তা বাহিনী আশা করছে, এই অভিযানগুলোর মাধ্যমে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি হবে।
উত্তর ওয়াজিরিস্তান এবং কুর্রাম জেলার মতো অঞ্চলগুলো দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি ও তাদের কর্মকাণ্ডের তথ্য পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
এ ধরনের অভিযান পাকিস্তান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার গুরুত্বকেও প্রতিফলিত করছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় একাধিক পর্যায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং আইএসপিআরের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলবে এবং স্থানীয় জনগণকে সন্ত্রাসী হুমকি থেকে রক্ষা করার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

